সাতে-পাঁচে থাকিনা

সাতে-পাঁচে থাকিনা
নদীর তীরে বসে খোঁজো আজ শান্তি?
অসুরের দাপটে শহরে অশান্তি।

কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখে লেখো কবিতা?
দেশের কোণে কোণে নারী নির্যাতিতা।

বিপন্ন নয় গো পরিবারের কেউ,
সাগর পাঠাবে না তোমার তটে ঢেউ?

নির্যাতিতারই পাশে দাঁড়ানো চাই
এই মনোভাব কি তোমার মনে পাই?

কাঞ্চনজঙ্ঘা নদী তোমায় টানে
নির্যাতিতা মরে হিংস্র উজানে।

সাতে-পাঁচে থাকিনা ভাবখানা যাক-না
তিলোত্তমারা কি সুবিচার পাবে না?

কেমন করে

কেমন করে
কেমন করে বদলে দিলে
আমার, সবার দেখার চোখ-
কেমন করে টানলে কাছে
জনগণের মানসলোক?

কেমন করে মানচিত্রটা
নতুন রঙে রাঙালে,
ঘুমন্ত সব জনপদকে
কেমন করে জাগালে?

কেমন করে ওঠালে ঢেউ
শুকনো মরা নদীতে?
জনজোয়ার আছড়ে পড়ছে
হরেক গলি-রাজপথে।

কেমন করে ঐক্যের মালা
গাঁথলে তুমি মরণে?
মানবতার মিছিল চলে
তোমার স্মৃতির স্মরণে।

অজুহাতের দেয়াল তুলে
ছড়ায় যারা বিভ্রান্তি-
লক্ষ্যে অচল মিছিল বুঝি
তাদের শিরে সংক্রান্তি?

কথায় কাজে ফারাক যেন
দেয় চিনিয়ে ধূর্তামি,
তোমার জন্যে প্রতিবাদ আজ,
শাস্তি পাবেই আসামি।

তুমি গেলে কোনখানে

তুমি গেলে কোনখানে
কালো মেঘের সাজসজ্জায়
বিদ্যুৎ চালায় তীক্ষ্ম ছুরি,
ওপর থেকে আশার বৃষ্টি
খেলছ এখন লুকোচুরি?

তোমার জন্য প্রার্থনা আজ
অলিগলি আর রাজপথে,
চোখের দৃষ্টি শুকিয়ে গেল-
আসবে কখন কোন রথে?

বৃষ্টি তুমি পাচ্ছ না দেখতে
হৃদয়-মরুর হাহাকার,
ব্যস্ততা দেখাচ্ছ কর্মকাণ্ডে-
নেই আন্তরিক অঙ্গীকার?

মরুভূমির তপ্ত বালুকা
তাকিয়ে রয় আকাশ পানে,
বিচার-তেষ্টা মেটাবে কবে
বৃষ্টি তুমি গেলে কোনখানে?

বালুকণার হৃদয় জুড়ে
অভয়ার কাতর প্রার্থনা,
বিচার-বৃষ্টি সেই প্রার্থনা
পূরণ করতে কি পারো না?

যদি না আস অচিরে তুমি
মরুঝড় দেখাবে কামাল,
বাকি সবুজ বাঁচবে না গো
শক্ত হবে দেওয়া সামাল।

তবুও আশায় থাকি

তবুও আশায় থাকি
যে-মাটির ধুলো মেখে
আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছি শৈশবে,
হঠাৎ দেখি পায়ের নীচে সে-মাটি কখন গেছে উবে।
যে-বটগাছটা কঠিন সময়ে একটু দিত শান্তি-ছায়া,
সে-গাছটি কেন আজ ন্যাড়া-
দিচ্ছে এখন অশান্ত উষ্ণ ধোঁয়া?

যে-দিঘির জল আমার কপালে মায়ের হাতের জলপট্টি মনে হত,
সেই দিঘির দূষিত জল আজ শরীরে সৃষ্টি করছে ক্ষত।
যে-চাতালে চলত কীর্তন, মন আনন্দে উঠত মেতে,
পরনিন্দা পরচর্চা জোর কদমে চলছে সেখানেতে।
যে-হাসপাতাল বড় ছেলের প্রাণটা করেছিল রক্ষা,
সেখানে এখন অর্থ তছরুপের বুভুক্ষা।
যে-কাদায় পা পিছলে গেলে
সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতই খেলার বন্ধুরা,
আজ পরস্পরের দিকে ছুঁড়ে চলেছে সেই কাদা তারা।

পায়ের তলায় মাটি নেই বটবৃক্ষের ছায়া নেই-
মমতাময়ী স্নেহ নেই, সত্যিকারের সৃজন নেই-
সাহায্যের হাত নেই; হারাল বুঝি কালের স্রোতে?
তবুও আশায় থাকি সবকিছু ফিরে আসবে আবার এক নতুন প্রভাতে।

আসবে ফিরে স্বপ্নগুলো

আসবে ফিরে স্বপ্নগুলো
স্বপ্ন যেন মেঘের মতো
উড়ে গেছে অন্য দেশে,
আমার তোমার সবার ভুবন
তাইতো থাকে দুঃখক্লেশে।

হারিয়েছে দেশের মাটি
স্বপ্ন-চাষের উর্বরতা,
মানবতার চলছে খরা
বুকের মাঝে অস্থিরতা।

বুকের দরজা বন্ধ এখন
অস্থিরতা দেয় পাহারা,
ভালোবাসা দেশ ছেড়েছে
অনুভূতি দিশাহারা।

বুকের মাঝে অস্থিরতা
বাইরে যত প্রতিবাদ ঝড়,
আসছে তুফান আসছে বৃষ্টি
কাঁপছে বুঝি আমিত্ব-গড়।

এই ঝড়ে আর বৃষ্টিধারায়
পথের ময়লা যাবে সরে,
আসবে ফিরে স্বপ্নগুলো
আগমনি বাজবে ঘরে।

রং লাগানো শিল্পকলা

রং লাগানো শিল্পকলা
আসল ছবি হারিয়ে যায়
রং লাগানো তুলির টানে,
চারদিকেতে নকল ছবি
বিভ্রান্তি হরেক ক্ষণে।

তাইতো মনে যুদ্ধ চলে
চোট পাওয়া শরীর তার-
প্রতিদিনেই রক্ত ঝরে
দেখে মুখোশ মানবতার।

রং লাগানো শিল্পকলা
বাড়ছে তার উন্নয়ন,
আসল আজ মুখ দেখাতে
লজ্জা বুঝি পায় ভীষণ।

সেই লজ্জা কাটাতে আজ
ডুবটা দেব মন-সাগরে,
নৈতিকতার অস্ত্র এনে
হানা দেবই রুদ্ধ দ্বারে।

দরজা ভেঙে রং-ভবন
অস্ত্রাঘাতে করব নাশ,
ফুল-বাগানে ফুটবে ফুল
আগাছা সব হবেই লাশ।

এনো ন্যায়ের দণ্ড

এনো ন্যায়ের দণ্ড

প্রহর আমার পাথর বুকে
মাথা ঠুকে মরছে,
আগমনের প্রত্যাশাটা
মাথায় শুধু ঘুরছে।
তুমি আসবে পায়চারি তাই
দৃষ্টি পথে থাকবে,
কানটা সজাগ সারাদিনভর
কখন তুমি ডাকবে।
পথে পথে প্রতিবাদী
অপেক্ষাতে তোমার,
চোখদুটি চায় দেখতে তোমার
চোখ ধাঁধানো গ্ল্যামার।
তোমায় সম্মান জানাতে যে
বরণডালা রেডি,
প্রসাধনে এত সময়
কখন ভাঙবে গণ্ডি?
গণ্ডি ভেঙে সুসজ্জিতা
এনো ন্যায়ের দণ্ড,
সুবিচার পাক তিলোত্তমা
শাস্তি পাক-না ভণ্ড।

প্রেমের দেবতা

প্রেমের দেবতা
প্রেমের দেবতা সম্পদ নিয়ে
এসো বাংলার এই বুকে,
উজাড় করেই ঢেলে দাও সব
একটু না হয় বাঁচি সুখে।

যত নদী আছে বাংলার বুকে
দূষিত হয়েছে মনেপ্রাণে,
শুষে নাও বিষ ভরো প্রেম-বারি
নতুন মনের নির্মাণে।

নাগরিক দোষ মুছে দাও তুমি
প্রেমের রবার নিয়ে হাতে,
মানবিক গুণ ঢেলে দাও হৃদে
সুবাস ছড়াক দিনে রাতে।

নগরায়ণের যত বিষ আছে
শুষে নিয়ে দাও প্রেম ভরে,
ফুসফুসে থাক বিশুদ্ধ প্রেম
বেঁচে থাকা সুখ ঘরে ঘরে।

বিবেকানন্দ রবীন্দ্রনাথ
নদের চাঁদের এই দেশ-
প্লাবিত হোক না তোমার আশিসে
ধুয়ে যাক সব বিদ্বেষ।

তিলোত্তমা পাক সুবিচার

তিলোত্তমা পাক সুবিচার
তিলোত্তমার চোখের জলে
এত আগুনের তেজ ছিল-
দোষীদের প্রাণ উঠল কেঁপে ভয়েতে,
কত মিথ্যা, দোষারোপ, কুম্ভীরাশ্রু, অসংলগ্ন কথাবার্তা… ক্যামেরাবন্দি।
এত তেজ ছিল তার অশ্রুজলে
প্রতিবাদ তাই রাস্তায় রাস্তায়
বৃষ্টি-রোদ-সময় উপেক্ষা করে… ফ্রেমবন্দি।
সব জনপদ প্রতিবাদে একসাথে,
প্রতিবাদের ভাষা এক বিচার চাই…
ক্যানভাসে ছবি হল আঁকা।
সব পড়ুয়া নামল পথে
সত্যান্বেষণ ছুটছে রথে-
এদিক সেদিক রাজপথ থেকে গলিপথে।
গতিপ্রকৃতি দেখেই লাগে
কেন্দ্রবিন্দু নেই আর কেন্দ্রে।
সবার গলায় এক ভাষা বিচার চাই,
কারোর আবার ঘোলা জলে মাছ ধরা।
ধরুক-না মাছ ক্ষতি নেই-
শুধু প্রাণহানি রক্তক্ষয় ধর্ষণ যেন না হয়।
অন্তরাত্মা চিৎকার করে- বিচার চাই সত্বর।
তিলোত্তমা পাক সুবিচার

নতুন পথ ডাকছে

নতুন পথ ডাকছে
এই পথে যে অন্ধকার
ভোঁতা দৃষ্টি ছুরি,
যায় না কাটা এ-ঘন বন
আলো গেছে চুরি।

যে-রাস্তায় আলোর ছটা
ডাকে আদর করে,
পাদুটি যাক সে-রাস্তায়
লক্ষ্য নেই দূরে।

হরেক মোড়ে বিপদ থাক
নিষ্ঠা তবু বুকে,
কুঁকড়ে যাবে ভয়েই তারা
ল্যাঠা যাবেই চুকে।

নতুন পথ ডাকছে ওই
রবির বাতি জ্বেলে,
নতুন রবি আশার আলো
পথেতে দেয় ঢেলে।

পথের আলো টানবে স্নেহে
সফলতার পানে,
জীবন হাঁটে সঠিক পথে
শুভ মন্ত্র কানে।