তোমার আগমনে

তোমার আগমনে
জীবনে তোমার আগমনে
ভালোবাসলাম হাসলাম,
হৃদয়ের রুক্ষ ভূমি সিক্ত সজল–
নিষ্ক্রিয় সক্রিয় হল।
কদম ফুল ফুটল উপবনে
সমীর সানন্দে আনে মিঠা মিঠা বাস
সকল ইন্দ্রিয় যেন হয় সচকিত;
প্রিয়দর্শিনী উর্বশী কাড়ে আমার চোখের দৃষ্টি
তার কেশদামের হিল্লোলে সুবাস ছড়ায়,
শাড়ির স্পর্শে পেলাম সহস্র বিদ্যুৎ।
অনুভূতি মানে না শাসন–
তাই দেখে মৎস্যকন্যা বেলাভূমিতে,
অথবা আন্দামানের হিংসাহীন জারোয়া রমণী।
অকবি কবি হল, মরু আজ মরমি ধরণি।

অনুভূতি-তারা

অনুভূতি-তারা
এ-সভ্যতা করেছে সৃজন অবক্ষয়ের সাগর–
ভেসে আছি আমি এক আঁধারের দ্বীপ।
দেহ আছে মন আছে নেই অনুভূতি
নেই কোনো যোগাযোগ অন্যান্য দ্বীপের সাথে,
ওয়াইফাই করছে কই কাজ?
আঁধারের দলিল হৃদয়ে করেছে পাহাড় সৃষ্টি ।
চেয়েছিলাম নীল আকাশে
গড়ে তুলব নক্ষত্রপুঞ্জ–
জ্বালিয়ে মনের একেকটি দীপ;
ভেঙে ফেলব পাহাড় একটু একটু করে।
তারপর একদিন জ্বেলে দেব সব অনুভূতি-তারা,
আলোকিত হবে দ্বীপ
ওয়াইফাই উঠবে জেগেই।
যোগাযোগ স্থাপনে সকল দ্বীপ হবেই উদ্যোগী।
সাগর শুকিয়ে যাবে।

তুই মানবতা

তুই মানবতা
তুই ছাড়া আমি অন্ধ
তুই তো আমার যষ্টি।
বিপজ্জনক বিদ্যুতের ঝলকানি থাক-না
থাক-না তুমুল বৃষ্টি;
তুই থাকলে পথের দৈর্ঘ্য হ্রাস পায়
আঁকাবাঁকা পথ সরল হয়।
তুই ছাড়া মন নীরব বিহঙ্গ
মন খারাপের বিকেল বেলা
নিষ্ঠুর আঁধার কাঁধে চাপে
জড়িয়ে পড়ি চরম পাপে।
তুই থাকলে ঝঞ্ঝা আসুক
আসুক ঢেউয়ের পাহাড়,
নুলিয়ার ভরসা থাকুক
বিপদের হোক হার।
আমৃত্যু থাক-না পাশে
তুই মানবতা থাক বুকে।

আমাকে ভালোবাসো

আমাকে ভালোবাসো
সবসময় চুলচেরা বিশ্লেষণ
সবসময় খামতির বিচার
আমার কী নেই তার সমালোচনা
করতে করতে তুমি এগোলে আমার দিকে।
সত্যি কি তুমি এগোলে?
হৃদয় ভাণ্ডারে কী কী পূর্ণ পাত্র আছে
তার খতিয়ান না দেখে শূন্য পাত্র গুনে গেলে–
সত্যি কি তুমি এগোলে?
এমন করলে ভালোবাসার নদীতে
প্রবাহিত হয় না জলের ধারা।
আমার মধ্যে আধুনিকতার শূন্যতা
বড় বড় ডিগ্রির শূন্যতা
চটকদার রূপের শূন্যতা দেখলে;
আমার প্রণয়ের পূর্ণতা
স্নেহ মায়া মমতার আন্তরিকতার পূর্ণ পাত্র
দেখতে পেলে না।
চারদিকের আলোকে
তোমার দেখার চোখ নষ্ট–
তাই বুঝলে না তোমার প্রেমের পাখিটাকে
বন্দি করে রেখেছ খাঁচায়।
তুমি যদি চাও পাখিটা উড়ুক–
দ্বিধা না করে আমাকে ভালোবাসো,
বিনিময়ে আমি খুলে দেব খাঁচা।

যদি আসতে জীবনে

যদি আসতে জীবনে

শীত খুলছে নিজের রূপ ধীরে-
মনের বারান্দা ডাকছে আমায়
রোদ-রেণু মাখতে…
মাখতে মাখতে আকাঙ্ক্ষার ঘ্রাণ বলে
আরো চাই আরো চাই সুখ-রোদ সকল সময়।
এখন তো রোদ মাত্র ঘণ্টা দুই থাকে,
আমার মনের ঘরটাকে উল্লম্ব অক্ষের
চারদিকে ঘোরাতে যদি পারতাম
তাহলে আকাঙ্ক্ষা ফুলেফেঁপে যেত।
সুখের উষ্ণতা মেখে জীবনের বারান্দাটা
সারাদিন থাকত আরামে।
তুমি যদি আসতে জীবনে
তোমার ঐন্দ্রজালিক স্পর্শে
মনের ঘরটা অক্ষের চারদিকে ঘুরত।
রোদ-ছায়াতে সুখের অভাব হত না।
তুমি এলে কই?

বরাতের দরজাটা বন্ধ

বরাতের দরজাটা বন্ধ
বরাতের দরজাটা বন্ধ ভেতর থেকে
কারণ কেউ কি বলে দেবে?
ভেতরে যে বসে আছে দেখতে পায় না সে কি
সংসার চলছে কীভাবে?

ওই যে আসছে শীত উত্তর দিক থেকে
মন্দ বার্তা সব নিয়ে,
ছিন্ন পরিধানের সহস্র কারুকাজ
কুঁকড়ে গেছেই যেন ভয়ে।

নবান্ন উৎসবে সবাই ঘরে যখন
বানাবে পায়েস পিঠে নানা-
ফুটো চালে চাঁদ বলে এই উৎসব করা
তোদের পোড়া কপালে মানা।

সন্তানের বায়না পারি না মেটাতে আমি
দুখের তটিনী বুকে বয়,
কপালের মালিকের চোখেতে পড়েছে ছানি
উত্তরের হাওয়া কয়।

হয়তো তুমি আসবে

হয়তো তুমি আসবে
তুমি বলেছিলে আসবে, আসবে গোপনে।
সেই কথা জানতে পারেনি নদীর তরঙ্গ
জানতে পারেনি বকুল গাছটা
জানতে পারেনি আকাশের মেঘ
জানতে পারেনি দখিনা বাতাস
জানতে পারেনি আম-পাড়া গ্রীষ্মের দুপুর।
বিশ্বাস করেছি তুমি আসবেই,
বিশ্বাস করেছি ভালোবাসবে।
এই বিশ্বাসে কাটছে সারাদিন
এই বিশ্বাসে কাটছে সারারাত।
এই বিশ্বাসের লম্বা অদৃশ্য কেতন
যদি তোমার নজরে পড়ে
তোমার মনটা যদি প্রেমাতুর হয়,
তখন হয়তো তুমি আসবে
সূর্য-ওঠা দিন চাঁদ-ওঠা রাত
পাব আদপে দেখতে?

স্বপ্নের সবুজ চারাগাছ

স্বপ্নের সবুজ চারাগাছ
বুক শেলফে ব্যক্তিগত ডায়েরিটার
সব পাতা ভরে গেছে
আর পাতা খালি নেই।
কান পাতলেই দীর্ঘশ্বাস শোনা যায়।
প্রতিটি পাতায় আঁকা ছিল
টুকরো টুকরো ছবি স্বপ্নের।
আফশোস ছিল গোটা স্বপ্নটার ছবি
আঁকা হয়ে ওঠেনি।
একদিন প্রতিদিনের মতো
শেলফটা সাফ করছিলাম,
শুনতে পেলাম না সেই দীর্ঘশ্বাস।
সব পাতা তন্নতন্ন করে খুঁজলাম
সব আঁকা ছবি উধাও হঠাৎ।
মনের জানালা খুলে দেখি
উঠোনে নতুন স্বপ্নের সবুজ চারাগাছ
গজিয়ে উঠেছে, দৌড়ে গেলাম গোড়ায় জল ঢালতে।

ভাড়া বাড়ির দেয়াল

ভাড়া বাড়ির দেয়াল

ভাড়া বাড়ির দেয়াল আমি নিঃসঙ্গ বড়ই।
একাকিত্বের জীবন যেন কাটে না যে আর
এক পরিবার থাকে আজ আরেকটা কাল।
বৈচিত্র্যময় মানুষজন দেখেও আমার
বদল হল জীবনে কই? দাঁড়িয়ে নিঃসঙ্গ।
তাঁদের নানাবিধ পছন্দে আমি যে কাহিল-
বুকে আঘাত ঘুম আসে না বোঝে না যে তারা।
আমার সঙ্গে জাগতে থাকে টিকটিক ঘড়ি।

কত ঝগড়া কত–না প্রেম দেখেছে নয়ন,
আমার প্রেমে পড়ে না কেউ, ছিদ্র করে বুক।
আহত বুক নীরবে কাঁদে কেউ তো দেখে না,
ঘর সাজায় সানন্দে রয় আমি থাকি দুঃখে।
বিচিত্র সব মানুষ আসে তবু একাকিত্ব,
বিচিত্রতার মাঝে থেকেও নেই যে বৈচিত্র্য।

দেখা যায় নবারুণ

দেখা যায় নবারুণ
নেই কালো হাত নেই কালো রাত
নেই আঁধারের কালো থাবা,
উষার আলোক আছে– শাখে শাখে পাখি নাচে
ঠান্ডা বাতাস দেয় বাহবা।

এমন সুদিন পলকে পালায়
নিয়ে যায় সাথে বিজ্ঞাপন,
মনের ঘোড়াও মানবে না হার
লাগাম হাতে জীবনযাপন।

দাঁতে দাঁত চেপে লড়াইটা লড়া
চোখ হারায় না লক্ষ্য-আলো,
ঠিকানার পথ হোক না দূরে
পিনকোডে কি লেগেছে ধুলো?

আনাজের দামের উত্তাপে
জীবনযাপনের শরীরে ফোঁড়া–
তবুও সে রাজি ধুলো মুছে নিয়ে
ছোটাবে তার বিশ্বাস ঘোড়া।

এ-ঘোড়ার চোখ আঁধারেও জ্বলে
পথে থাক না অযুত কাঁটা–
রক্ত আঁকুক নকশা পথে
কান শুনবে আলোর ঘণ্টা।

শুনতে শুনতে অশ্বশক্তি
বেড়েই চলে হাজারগুণ,
ওই দেখা যায় আলোকের ছটা
ওই দেখা যায় নবারুণ