আসবে কবে

আসবে কবে
গঙ্গার সব ঢেউ
গোনা আজ শেষ,
আকাশের সব তারা
হয়ে গেছে গোনা।
পথের দূষণ শহরে আজ
হয়ে গেছে মাপা,
স্ট্রীট লাইটের লাক্স
করেছে চোখ অনুভব।
শহরের সব মোড়ও
হয়ে গেছে ঘোরা,
কর্মস্থলে কাজের ধারা
হয়ে গেছে জানা।
কোনটা মুখ আর কোনটা মুখোশ
হয়ে গেছে চেনা,
ধৈর্য নামক মোমবাতিটা জ্বলে জ্বলে
হয়ে গেছে শেষ,
রাতের পর রাত তা দেখে আজ
হয়ে গেছে নিস্প্রভ।
এলে না আজ তবু তুমি-
কোথায় গেলে বিচার?

আসবে কবে সেজেগুজে?

স্বার্থ দেয় পাহারা

স্বার্থ দেয় পাহারা
সব আনন্দের টুটি টিপে
হত্যা করেছে সময়,
নেই কাব্য নেই প্রেম-স্নেহ
স্বার্থ শুধু কথা কয়।

মিষ্টি কথা আচরণ যেন
লুকায় স্বার্থের দাঁত,
লক্ষ্য পূরণ হলেই যেন
চেনায় আসল জাত।

যখন স্বার্থ দেয় পাহারা
চিন্তাধারাটা সংকীর্ণ,
মানবতার মাপকাঠিতে
হয় না কাজ উত্তীর্ণ।

পাহারা সেখানে এত কড়া
প্রেম-স্নেহ ঢোকে নাতো,
অপুষ্টিতে ঝরে যায় শুভ
ভাবনার কলি যত।

ঝরে-যাওয়া কলিতে শুধু
ভুল সিদ্ধান্তের গন্ধ,
সে-গন্ধে আশার নাক জ্বলে
হতাশা ছড়ায় ধন্দ।

ধন্দ-ধুলো উড়িয়ে দিতেই
আসছে বোধের ঝড়,
ভাঙ্গুক-না তা জঞ্জাল ভরা
আমিত্ব নামক গড়।

আসছে দেখো নির্মল বায়ু
প্রেম-স্নেহ নিয়ে সাথে,
স্বার্থ ঝাঁপায় নদীর জলে
সম্পর্ক যে মালা গাঁথে।

আর জঙ্গলে যাব না

আর জঙ্গলে যাব না

এমন জঘন্য ঘৃণ্য নৃশংসতা দেখে
ভেবেছিলাম জঙ্গলে যাব,
এ-নগর ছেড়ে বহু দূরে-
যেখানে এমন মানুষের বেশে শয়তান থাকবে না।

ভেবেছিলাম এ-নগরের পথেঘাটে
নির্ভয়ে হেঁটে বেড়াব,
এত কপটতার দূষণে হাঁটা হল কই?
তাই জঙ্গলে যাব-
সেখানে এমন কপটতা থাকবে না।

এখানে নিঃস্বার্থ সেবার আড়ালে
হিংস্র দুর্নীতি মুখোশ পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে-
জঙ্গলে গেলে এসব দেখতে হবে না,
পশুরাতো মুখোশ পরে না।

এই নগরের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ
যা ঘটে চলেছে অলিতে গলিতে রাজপথে-
খুলে দিয়েছে আমার চোখ।
দেখছি তাই মানবিক মুখ- মুখোশ নয়,
সত্যের আলোর পথ- সত্যের বেচা-কেনা নয়।
দেখছি এখানে তিলোত্তমাদের শক্তি কত,
নাগরিকদের মাথাগুলো শক্ত করে ধরেই রেখেছে শিরদাঁড়া- বিক্রি হয়নি।

তাই ভাবছি আর জঙ্গলে যাব না,
বাকি জীবনটা এই বাংলায় কাটিয়ে দেব।

হও হুঁশিয়ার

হও হুঁশিয়ার
মূল্যবোধের কৌটো যদি ভরা থাকে,
বিপদ-বেড়াল দৌড়ে আসে নিকটে।
কৌটো শুঁকে আঁচড়ানোটা তারই কাজ-
বুঝে গেছে কারণটা যে
মূল্যবোধই ছোঁড়ে গোলা- প্রতিবাদ।

সবার কৌটো বন্ধ ছিল
শান্তিপ্রিয় মনটা ছিল,
ছোট ছোট অন্যায় দেখে নীরবতা
বানায় তাদের সরীসৃপ।
বুকে হাঁটা সমাজ দেখে
অসুর বাড়ায় বাহুর পেশি,
অহংকারী অসুর চলে বুক ফুলিয়ে।

নির্ভয়ার এক শক্তি ছিল,
একই সঙ্গে খুলে দিল সব কৌটো-
সম্মিলিত মূল্যবোধ যে আকাশ ছোঁয়,
মানুষ যেন খুঁজে পেল শিরদাঁড়াটা।
হও হুঁশিয়ার অসুরব্যাটা।

কেন টানলে সীমা

কেন টানলে সীমা
আগের মতো বাসলে ভালো
এমন ক্ষতি হয়?
শাসন করা সময় এসে
দেখাল বুঝি ভয়।

উঠত ফুটে ফুলের কলি-
হাসি তোমার মুখে,
দেখে আমার ভরত মন-
দিন কাটত সুখে।

আগে তোমার সৃজন দেখে
অবাক হত আঁখি,
আজ অচল শিল্পী হাত
মরল নদী দেখি।

নদীর বুকে বালুকা রাশি
তপ্ত রোদে কাঁদে,
এখন যত ভালোবাসাই-
বন্দি বুঝি ফাঁদে।

আগে যখন বাসতে ভালো-
দৃষ্টি যেন ক্ষমা,
আজ তোমার নাগাল পেতে
কেন টানলে সীমা?

গণ্ডি মানে দূরেই ঠেলা-
মানে তোমার জানা,
আমার দেশ ছেড়ে কোথায়
যাচ্ছ মেলে ডানা?

সাতে-পাঁচে থাকিনা

সাতে-পাঁচে থাকিনা
নদীর তীরে বসে খোঁজো আজ শান্তি?
অসুরের দাপটে শহরে অশান্তি।

কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখে লেখো কবিতা?
দেশের কোণে কোণে নারী নির্যাতিতা।

বিপন্ন নয় গো পরিবারের কেউ,
সাগর পাঠাবে না তোমার তটে ঢেউ?

নির্যাতিতারই পাশে দাঁড়ানো চাই
এই মনোভাব কি তোমার মনে পাই?

কাঞ্চনজঙ্ঘা নদী তোমায় টানে
নির্যাতিতা মরে হিংস্র উজানে।

সাতে-পাঁচে থাকিনা ভাবখানা যাক-না
তিলোত্তমারা কি সুবিচার পাবে না?

কেমন করে

কেমন করে
কেমন করে বদলে দিলে
আমার, সবার দেখার চোখ-
কেমন করে টানলে কাছে
জনগণের মানসলোক?

কেমন করে মানচিত্রটা
নতুন রঙে রাঙালে,
ঘুমন্ত সব জনপদকে
কেমন করে জাগালে?

কেমন করে ওঠালে ঢেউ
শুকনো মরা নদীতে?
জনজোয়ার আছড়ে পড়ছে
হরেক গলি-রাজপথে।

কেমন করে ঐক্যের মালা
গাঁথলে তুমি মরণে?
মানবতার মিছিল চলে
তোমার স্মৃতির স্মরণে।

অজুহাতের দেয়াল তুলে
ছড়ায় যারা বিভ্রান্তি-
লক্ষ্যে অচল মিছিল বুঝি
তাদের শিরে সংক্রান্তি?

কথায় কাজে ফারাক যেন
দেয় চিনিয়ে ধূর্তামি,
তোমার জন্যে প্রতিবাদ আজ,
শাস্তি পাবেই আসামি।

তুমি গেলে কোনখানে

তুমি গেলে কোনখানে
কালো মেঘের সাজসজ্জায়
বিদ্যুৎ চালায় তীক্ষ্ম ছুরি,
ওপর থেকে আশার বৃষ্টি
খেলছ এখন লুকোচুরি?

তোমার জন্য প্রার্থনা আজ
অলিগলি আর রাজপথে,
চোখের দৃষ্টি শুকিয়ে গেল-
আসবে কখন কোন রথে?

বৃষ্টি তুমি পাচ্ছ না দেখতে
হৃদয়-মরুর হাহাকার,
ব্যস্ততা দেখাচ্ছ কর্মকাণ্ডে-
নেই আন্তরিক অঙ্গীকার?

মরুভূমির তপ্ত বালুকা
তাকিয়ে রয় আকাশ পানে,
বিচার-তেষ্টা মেটাবে কবে
বৃষ্টি তুমি গেলে কোনখানে?

বালুকণার হৃদয় জুড়ে
অভয়ার কাতর প্রার্থনা,
বিচার-বৃষ্টি সেই প্রার্থনা
পূরণ করতে কি পারো না?

যদি না আস অচিরে তুমি
মরুঝড় দেখাবে কামাল,
বাকি সবুজ বাঁচবে না গো
শক্ত হবে দেওয়া সামাল।

তবুও আশায় থাকি

তবুও আশায় থাকি
যে-মাটির ধুলো মেখে
আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছি শৈশবে,
হঠাৎ দেখি পায়ের নীচে সে-মাটি কখন গেছে উবে।
যে-বটগাছটা কঠিন সময়ে একটু দিত শান্তি-ছায়া,
সে-গাছটি কেন আজ ন্যাড়া-
দিচ্ছে এখন অশান্ত উষ্ণ ধোঁয়া?

যে-দিঘির জল আমার কপালে মায়ের হাতের জলপট্টি মনে হত,
সেই দিঘির দূষিত জল আজ শরীরে সৃষ্টি করছে ক্ষত।
যে-চাতালে চলত কীর্তন, মন আনন্দে উঠত মেতে,
পরনিন্দা পরচর্চা জোর কদমে চলছে সেখানেতে।
যে-হাসপাতাল বড় ছেলের প্রাণটা করেছিল রক্ষা,
সেখানে এখন অর্থ তছরুপের বুভুক্ষা।
যে-কাদায় পা পিছলে গেলে
সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতই খেলার বন্ধুরা,
আজ পরস্পরের দিকে ছুঁড়ে চলেছে সেই কাদা তারা।

পায়ের তলায় মাটি নেই বটবৃক্ষের ছায়া নেই-
মমতাময়ী স্নেহ নেই, সত্যিকারের সৃজন নেই-
সাহায্যের হাত নেই; হারাল বুঝি কালের স্রোতে?
তবুও আশায় থাকি সবকিছু ফিরে আসবে আবার এক নতুন প্রভাতে।

আসবে ফিরে স্বপ্নগুলো

আসবে ফিরে স্বপ্নগুলো
স্বপ্ন যেন মেঘের মতো
উড়ে গেছে অন্য দেশে,
আমার তোমার সবার ভুবন
তাইতো থাকে দুঃখক্লেশে।

হারিয়েছে দেশের মাটি
স্বপ্ন-চাষের উর্বরতা,
মানবতার চলছে খরা
বুকের মাঝে অস্থিরতা।

বুকের দরজা বন্ধ এখন
অস্থিরতা দেয় পাহারা,
ভালোবাসা দেশ ছেড়েছে
অনুভূতি দিশাহারা।

বুকের মাঝে অস্থিরতা
বাইরে যত প্রতিবাদ ঝড়,
আসছে তুফান আসছে বৃষ্টি
কাঁপছে বুঝি আমিত্ব-গড়।

এই ঝড়ে আর বৃষ্টিধারায়
পথের ময়লা যাবে সরে,
আসবে ফিরে স্বপ্নগুলো
আগমনি বাজবে ঘরে।