ডিজিট্যাল মন

ডিজিট্যাল মন
ঘুম ভাঙানো স্ক্রিনের সঙ্গে
ডিজিট্যাল ভোর জাগে,
বোকা বোকা হরেক স্ক্রলেই
একেক পৃথিবী ভাগে।

এত যোগাযোগ তবু মনে
একাকীত্ব-মেঘ জমে,
ভিড়ের মাঝে অবলম্বন
হারাই যেন গো ক্রমে।

বিষয় থেকে বিষয়ে ছোটে
বিস্মিত বিহ্বল মন,
নকল স্বপ্নের ছোঁয়া পেতে
ভুলি আসল জীবন।

সে-ছোঁয়াতে গভীরতা নেই
নাড়ির টান যে লুপ্ত,
বাহ্য অঙ্গ সাজানো বড়ই
অন্তর ভীষণ ক্ষিপ্ত।

একটু থেমে মুহূর্ত চাখি
রোবট হব না আর,
ডিজিট্যাল মন খুঁজে নেবে
জীবনের নয়া দ্বার।

না-বলা-কথা

না-বলা-কথা
না-বলা-কথা থাকলে বুকে
দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে,
আকুল হৃদে থাকা ব্যথায়
গোপন নীরে নয়ন ভাসে।

লুকিয়ে রাখা শত ভাবনা
যখন চষে মনের খেত,
লুক্কায়িত বাগানটাতে
কেউ দেখেনি কুসুম শ্বেত।

শত ইচ্ছে শত স্বপ্ন
বলতে যদি নাই বা পারে
ভাবনাগুলো আর খেলে না
পদ্ম-ফোটা পুকুর পাড়ে।

ভেঙে যাওয়া আশার দেহ
পায় না কোনো নরম ছোঁয়া
চুম্বনের তাপ না পেয়ে
চোখেই দেখে বিষাদ ধোঁয়া।

প্রশ্ন-ভরা মনের ঝাঁপি
নিজের ভর বাড়ায় শুধু
সমাধানের পথ খুঁজতে
চোখে দেখছে মরুর ধুধু।

সত্য কথা কয়েকশত
ঠিক সময়ে হয়নি বলা,
কিছু মিথ্যে বক্ষে চেপে
জীবন পথে এগিয়ে চলা।

প্রেমের কথা ক্ষমার কথা
হয়নি বলা কোন বাধাতে!
হাজার ভুল হাজার লাজ
রাখাই আছে এই মাথাতে!

এসব কথা প্রকাশ করে
যায় বানানো কত গল্প,
না-বলা-কথা সামলে রেখে
লিখতে পারা এক শিল্প।

তোমার আগমনে

তোমার আগমনে
জীবনে তোমার আগমনে
ভালোবাসলাম হাসলাম,
হৃদয়ের রুক্ষ ভূমি সিক্ত সজল–
নিষ্ক্রিয় সক্রিয় হল।
কদম ফুল ফুটল উপবনে
সমীর সানন্দে আনে মিঠা মিঠা বাস
সকল ইন্দ্রিয় যেন হয় সচকিত;
প্রিয়দর্শিনী উর্বশী কাড়ে আমার চোখের দৃষ্টি
তার কেশদামের হিল্লোলে সুবাস ছড়ায়,
শাড়ির স্পর্শে পেলাম সহস্র বিদ্যুৎ।
অনুভূতি মানে না শাসন–
তাই দেখে মৎস্যকন্যা বেলাভূমিতে,
অথবা আন্দামানের হিংসাহীন জারোয়া রমণী।
অকবি কবি হল, মরু আজ মরমি ধরণি।

অনুভূতি-তারা

অনুভূতি-তারা
এ-সভ্যতা করেছে সৃজন অবক্ষয়ের সাগর–
ভেসে আছি আমি এক আঁধারের দ্বীপ।
দেহ আছে মন আছে নেই অনুভূতি
নেই কোনো যোগাযোগ অন্যান্য দ্বীপের সাথে,
ওয়াইফাই করছে কই কাজ?
আঁধারের দলিল হৃদয়ে করেছে পাহাড় সৃষ্টি ।
চেয়েছিলাম নীল আকাশে
গড়ে তুলব নক্ষত্রপুঞ্জ–
জ্বালিয়ে মনের একেকটি দীপ;
ভেঙে ফেলব পাহাড় একটু একটু করে।
তারপর একদিন জ্বেলে দেব সব অনুভূতি-তারা,
আলোকিত হবে দ্বীপ
ওয়াইফাই উঠবে জেগেই।
যোগাযোগ স্থাপনে সকল দ্বীপ হবেই উদ্যোগী।
সাগর শুকিয়ে যাবে।

তুই মানবতা

তুই মানবতা
তুই ছাড়া আমি অন্ধ
তুই তো আমার যষ্টি।
বিপজ্জনক বিদ্যুতের ঝলকানি থাক-না
থাক-না তুমুল বৃষ্টি;
তুই থাকলে পথের দৈর্ঘ্য হ্রাস পায়
আঁকাবাঁকা পথ সরল হয়।
তুই ছাড়া মন নীরব বিহঙ্গ
মন খারাপের বিকেল বেলা
নিষ্ঠুর আঁধার কাঁধে চাপে
জড়িয়ে পড়ি চরম পাপে।
তুই থাকলে ঝঞ্ঝা আসুক
আসুক ঢেউয়ের পাহাড়,
নুলিয়ার ভরসা থাকুক
বিপদের হোক হার।
আমৃত্যু থাক-না পাশে
তুই মানবতা থাক বুকে।

আমাকে ভালোবাসো

আমাকে ভালোবাসো
সবসময় চুলচেরা বিশ্লেষণ
সবসময় খামতির বিচার
আমার কী নেই তার সমালোচনা
করতে করতে তুমি এগোলে আমার দিকে।
সত্যি কি তুমি এগোলে?
হৃদয় ভাণ্ডারে কী কী পূর্ণ পাত্র আছে
তার খতিয়ান না দেখে শূন্য পাত্র গুনে গেলে–
সত্যি কি তুমি এগোলে?
এমন করলে ভালোবাসার নদীতে
প্রবাহিত হয় না জলের ধারা।
আমার মধ্যে আধুনিকতার শূন্যতা
বড় বড় ডিগ্রির শূন্যতা
চটকদার রূপের শূন্যতা দেখলে;
আমার প্রণয়ের পূর্ণতা
স্নেহ মায়া মমতার আন্তরিকতার পূর্ণ পাত্র
দেখতে পেলে না।
চারদিকের আলোকে
তোমার দেখার চোখ নষ্ট–
তাই বুঝলে না তোমার প্রেমের পাখিটাকে
বন্দি করে রেখেছ খাঁচায়।
তুমি যদি চাও পাখিটা উড়ুক–
দ্বিধা না করে আমাকে ভালোবাসো,
বিনিময়ে আমি খুলে দেব খাঁচা।

যদি আসতে জীবনে

যদি আসতে জীবনে

শীত খুলছে নিজের রূপ ধীরে-
মনের বারান্দা ডাকছে আমায়
রোদ-রেণু মাখতে…
মাখতে মাখতে আকাঙ্ক্ষার ঘ্রাণ বলে
আরো চাই আরো চাই সুখ-রোদ সকল সময়।
এখন তো রোদ মাত্র ঘণ্টা দুই থাকে,
আমার মনের ঘরটাকে উল্লম্ব অক্ষের
চারদিকে ঘোরাতে যদি পারতাম
তাহলে আকাঙ্ক্ষা ফুলেফেঁপে যেত।
সুখের উষ্ণতা মেখে জীবনের বারান্দাটা
সারাদিন থাকত আরামে।
তুমি যদি আসতে জীবনে
তোমার ঐন্দ্রজালিক স্পর্শে
মনের ঘরটা অক্ষের চারদিকে ঘুরত।
রোদ-ছায়াতে সুখের অভাব হত না।
তুমি এলে কই?