আহ্নিক গতিতে জীবনের কত দিন চলে গেল পুব থেকে পশ্চিমে,
নদীর জলধারা মিলে গেল সমুদ্রে।
বার্ষিক গতিতে কত বছর সাগরের ঢেউয়ের মতো জীবনের বেলাভূমিতে ভেঙে গেল,
তুমি শেখাতে চাইলে নতুন দিন মাস বছর আসবে
পুরোনো আর আসবে না ফিরে।
শেখাতে চাইলে এখন যা আছে থাকবে না ভবিষ্যতে।
জীবনে নানান অভিজ্ঞতার নাগরদোলায় চাপিয়ে শেখাতে চাইলে এই মুহূর্তে যা উপরে পরমুহূর্তে তা নিচে,
সুখের পাহাড় আগামীদিনে দুঃখের সাগর হতে পারে,
তবু শিখলাম না কিছুই।
কত সম্পদ আহরণ করলাম
দর্পের চূড়ায় বসে আস্ফালন করলাম।
বুঝলাম না চূড়া ভাঙতে পারে
চোখে পরলাম ঘষা কাচের চশমা।
তাই ভালোবাসাতে ঘৃণা দেখি
আশাতে নিরাশা দেখি
দেখি না সম্ভাবনা,
মিথ্যা দেখে ভাবি সত্যি সত্যি সত্যি।
সত্যি শেখাতে চাইলে চেনাতে চাইলে নীরবে নিজেকে।
মিথ্যে শিখলাম, চিনলাম না নিজেকে।
Monthly Archives: December 2024
কখন কলম নেবে
সংখ্যায় অনেক তারা
পরনে বসন ছেঁড়া,
সকাল হলেই এই শীতে
রোদের উত্তাপ নিতে
যায় বেরিয়ে উঠোনে।
আমি মাথার চুল ছিঁড়ি গোপনে,
খাতার পাতায় দাগ কাটে না কলম
ভালোলাগা অনুভূতি রোগী
লাগানো চাই তার ক্ষতে মলম।
কলম ছুঁড়ে খাতা ছুঁড়ে বসে আছি আধ-শোওয়া,
কখন আসবে ফিরে
শতছিন্ন বস্ত্র পরা
আমার ভাবনারা সুখী আমেজ নিয়ে?
কখন কলম নেবে তারা
হৃদয় খুঁড়ে উপলব্ধির সঠিক রূপের
চিত্র আঁকবে খাতায়?
কখন আমার ভালো লাগবে আবার?
তুমি মানবিক বোধ
কত-না তাদের উড়তে দেখেছি
আকাশেতে মেলে ডানা,
কিশোর চিলের দৃষ্টি দেখত
তাদের মোহন মুনশিয়ানা।
দৃষ্টির যত বাড়ল বয়েস
সময়ের কাঁধে চেপে,
আকাশ কাঁদে তারা নেই আজ
কোথা গেল চুপেচুপে?
শুনি তাই আজ রোদের বিলাপ
বাতাসেতে কি হা-হুতাশ!
কোন দেশেতে গেল তারা
করছি শুধু তত্ত্বতালাশ।
দিনরাত শুধু আঁধার ঝরা
আজ দেশছাড়া তাই কি তারা?
তুমি এলেই ঝরবে বৃষ্টি
বাজবে আবার সেই একতারা।
আবার তখন বৃক্ষ পাতারা
গাইবে যে গান মনের সুখে,
আকাশেতে তুমি মানবিক বোধ,
উড়বে আবার ঊর্ধ্বমুখে।
পাঁচিল গড়া বন্ধ রাখুক
শৈশবে অনুশাসন আদর আবদার মেটানো,
ওখানে যাস না, ভয় দেখানো, ভুলিয়ে রাখা
গড়ে দেয় চারদিকে নানান পাঁচিল-
স্থায়ী তারা থেকে যায় অদৃশ্য আমৃত্যু।
চোখ আমরণ দেখে সেই দাঁড়ানো পাঁচিল-
ওপারে যাবার হয় না সাহস
জীবন দেখার চোখে বাঁধা যেন ফেট্টি-
এমনভাবেই গড়ে ওঠে বোধবুদ্ধি বিচার।
শৈশবে যাদের পাঁচিল ছিল না
তারা আলাদা একটু-
তারা যেন বেশি স্বাধীন অন্তরে,
ভাবনা চিন্তায় কাজেকর্মে বেশি মুক্ত।
শৈশবের লালন পালন হোক যত্ন সহকারে,
পাঁচিল গড়া বন্ধ রাখুক হিতৈষীরা।
কাব্য লেখা হল কই
অনেকদিনের ইচ্ছে ছিল
নির্ভেজাল মধু খাব।
কতবার গাছের মগডালে মৌচাক দেখে
থামিয়ে দিয়েছি পথচলা,
সাহস বেরোয়নি হৃদয় থেকে।
তবু জোর করে একবার
গাছে উঠলাম, অন্য ডাল গেল ভেঙে
মাটিতে পড়ে আঘাত পেল আমার শরীর।
নির্ভেজাল মধু খাওয়া হল না।
তবু জেদ ক্ষান্ত হল কই?
অনেক বছর পর মাথায় জেদ চাপল
আমার নাগালে মগডাল এল,
ভুলে গেলাম কখন মৌমাছির নাগালে এলাম-
সারা শরীর হুলবিদ্ধ হল
নির্ভেজাল মধু পেলাম না,
কাব্যের মধুর স্বাদ এল না নাগালে।
কাব্য লেখা হল কই?
আমার হর্ষ
আমার হর্ষ মনের আকাশে
বেড়াত যে উড়ে সুখে,
উড়ে গেল কোথা মেলে তার পাখা
পাই কই খুঁজে তাকে?
যখন উড়ত সোনালি ডানায়
সবাই দেখত চেয়ে,
সকল নয়নে নীরব ঈর্ষা
আসত ত্বরায় ছেয়ে।
এখন কোথায় লুকিয়ে রয়েছে
শঙ্কিত বড় বুঝি,
কোন জঙ্গলে কোন গাছে আছে
ঘুরে ঘুরে আজ খুঁজি।
এখন আমার পৃথিবী মঞ্চে
ছায়ারা দেয় যে হামা,
হাসিরা মলিন বস্ত্র পরেছে
সুখেরা ছিন্ন জামা।
সেখানে দুঃখ উন্নত শির
পড়ে না আশার আলো,
চেনা স্বপ্নেরা অচেনা বড়ই
মুখমণ্ডল কালো।
একসময়ের উজ্জ্বল রবি
ধূসর মেঘেতে ঢাকা,
বিষাদ পঙ্ক দেয় না ঘুরতে
হর্ষ গাড়ির চাকা।
হর্ষ এবার দেখাও শক্তি
হটাও ধূসর মেঘ,
আবার রবির কিরণে বাড়ুক
জীবনে সুখের বেগ।
অদৃশ্য চোর
মনের প্রাসাদ শুদ্ধ রাখলে
চিন্তারা গায় ঐকতান,
স্বপ্নেরাও সুখে ওড়ে
যায় শোনা যায় কলতান।
আঁধার যখন ঘনায় ধীরে
শুদ্ধ আলো হারালে,
অদৃশ্য চোর সকল দ্বারের
সাহস বাঁধে আড়ালে।
চুরি করে আশা উল্লাস
মনের শান্তি যা ছিল,
পথ দেখানো কম্পাস নিয়ে
অনেক অঙ্ক কষছিল।
চিন্তার জমি চাষ করে সে
সংশয় নামক সার ঢেলে,
ভয় বেদনার চারাগুলো
অতি দ্রুত ডাল মেলে।
প্রখর রোদে হর্ষ যেন
দম থাকে না ফুসফুসে,
ভয় বিষাদের চক্ষু যেন
আগুন জ্বালা ফার্নেসে।
পুনরুদ্ধার করতে সাহস
শুদ্ধ করা হোক প্রাসাদ,
মুক্ত সাহস মশাল জ্বালুক
দিক পুড়িয়ে সব ফ্যাসাদ।
দুশ্চিন্তা-রাক্ষস
টোকা শুনলাম
দরজাটা খুললাম
দেখি হাজার প্রশ্নচিহ্ন দাঁড়িয়ে।
যতক্ষণ না ওই চিহ্নগুলোকে আকাশে ওড়াতে পারব ততক্ষণ চিন্তার শরীরে অস্থিরতার কামড়–
সেই কামড়ের গভীরতা বৃদ্ধি পেলে দুশ্চিন্তা বংশবিস্তার করে।
তড়িঘড়ি ব্যবস্থা না নিলে অগোছালো থেকে যাবে সব আসবাব
পাব না খুঁজে কাজের আগ্রহ
কোথায় যে রাখা একাগ্রতা
পাব না খুঁজে আত্মবিশ্বাস,
নিজেকে পাব না খুঁজে আঁধার মেলায়।
মুহূর্তের ক্ষীর কে খেয়ে নেবে বুঝবই না
পড়ে থাকবে কি ছিবড়ে জীবন?
দুশ্চিন্তা-রাক্ষসটাকে মারতে হবে।
প্রয়োগে সব সফলতা
সুস্বাদু ফল নিষ্ফল যদি
কেউ না ভক্ষণ করে,
প্রয়োগ যদি নাই বা হল
কী লাভ বুদ্ধি ধরে?
সার্থকতা পায় না খুঁজে
পাঠ না হলে পুস্তক,
নতুন কিছু হয় না শেখা
নিষ্কর্মা হয় মস্তক।
কাজে কাজে যে তাপ বেরোয়
তাতেই মাথার মঙ্গল,
ফুটে ওঠে জুঁই চামেলি
দেয় না হতে জঙ্গল।
কালি যদি যায় শুকিয়ে
কলম হারায় মূল্য,
যায় হেরে এক পরাক্রমী
বীর যেন তার তুল্য।
অর্থের গর্বের নত মাথা
বদ যদি হয় সন্তান,
আস্ফালনের আগ দেখিয়ে
ভাবো তুমি মস্তান?
মানবতা ঢুকলে বুকে
শিক্ষা হয় গো সফল,
প্রয়োগে সব সফলতা
জীবন হয় না বিফল।
ভোরের ভীরু আলোক
ভোরের ভীরু আলোর তুলি
বুলিয়ে দিলে রঙিন ছবি–
হর্ষ-আগে ঢালে ত্বরিত
স্বর্গ থেকে আনানো হবি।
রজনি বুঝি মখমলের
চাদর- সরে প্রভাত এলে,
আমরা দেখি চিত্রকর–
রাঙায় নভ বর্ণ গুলে।
মেঘের গায়ে কমলা রঙে
রাঙানো সেই ক্যানভাসেতে,
স্বপ্নগুলো হাসছে যেন
পলাশ হয়ে মধুমাসেতে।
ঘুমের গুহা ছাড়ে পৃথ্বী
প্রতিশ্রুতি বাতাস আনে,
সৌন্দর্য আর আশারা
সুর দিয়েছে পাখির গানে।
ভোরের ভীরু আলোক গড়ে
নয়া দিনের আশার ভিত,
সেই পাথরে লেখাই আছে
জীবন গড়া সব গণিত।