প্রতিদিনের আলাপচারিতা
আমার বাঁচার রসদ,
তোমার কুশল বিনিময়ে
আমি যে শস্যশ্যামল।
তোমার চোখের ভাব-বিনিময়ে
নদীতে জোয়ার ভাটা,
আমার নদী তাইতো ছোটে
সাগরের অভিমুখে।
তোমার কলম মাটির খাতায়
লেখে আমার আখ্যান,
তোমার কুশল বিনিময়
ভোলায় শতেক শোক,
ভুলি নির্বান্ধব আমি, ভুলি
নিমেষে সকল দুঃখ।
সবান্ধবে যখন মাটির বুকে
নেমে আসো রাতে,
হাত বুলিয়ে দাও যে মুছে
আমার ব্যর্থতার গ্লানি।
নিশ্চিন্তে ঘুমাই আর স্বপ্ন
দেখি আগামী ভবিষ্যতের।
মানুষ যতই অসহিষ্ণু হোক
আমরা থাকব পাশে-
সচেতনতার বার্তা দেব,
আমি পৃথিবী তুমি আকাশ।
Monthly Archives: November 2024
সেই উৎস
অজন্তা-ইলোরার স্থাপত্য শৈলী
বিষ্ণুপুরের টেরাকোটার কারুকাজ
শান্তিনিকেতনের শিল্পকলা
রাপ্তি নদীর ধারে শ্রাবস্তীর ভাস্কর্য
সন্ধান দেয়নি আসল শিল্পকলার।
দিশেহারা বিফল যখন তোমার মুখমণ্ডলে খুঁজে পাই শ্রেষ্ঠতম শিল্পকলা।
স্বপ্নের উৎস সন্ধানে ঘুরেছি কত
বিদ্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশ-দেশান্তরে।
দিশেহারা বিফল যখন তোমার দর্শনে পাই সেই স্বপ্নের উৎস।
মন-সিক্ত-করা সঙ্গীতের খোঁজে কত সংগীতের পীঠস্থান গেছি, কত ওস্তাদের গান-না শুনেছি। যখন দিশেহারা বিফল তোমার বলা কথায় পেয়েছি সেই উৎস।
কালের স্রোতে যখন আশা–প্রেরণার ভেলা ডুবে গেছে, ঘুরেছি কত–না নদী সাগর পাহাড় তার উৎস খুঁজতে।
দিশেহারা বিফল যখন তখন তোমার হাসি খুঁজে দিয়েছে সেই আশা–প্রেরণার উৎস ।
প্রেমকাহিনী দেখতে
কোন শিল্পী গড়েছে চোখ
গড়েছে তোর মুখ,
অপ্সরাও তাকিয়ে দেখে
পায় যে বড় দুখ।
সম্মোহিত আমি হারাই
বাকশক্তি পলে,
স্রোতস্বিনী থামায় গতি
অনড় নৌকো জলে।
অজন্তা ও ইলোরা আজ
তোর সমুখে নত,
পলক ফেলা হয় না আর
দৃষ্টি বাণে হত।
অবাক চোখে তাকিয়ে থেকে
কখন দিন কাটে,
জান লাগিয়ে কাজ করি না
রবি কখন পাটে।
সর্বনাশা শিল্প দেখে
কাজের গতি থামে,
প্রেমকাহিনী দেখতে চাঁদ
আকাশ থেকে নামে।
তোমার অনন্ত প্রেমধারা
আমার আবাস আজ
বনভূমি- নিবিড় নির্জন,
স্নেহ–মায়া–মমতা বর্জিত
হিংস্র পশুরা করে গর্জন।
পরস্পর মারামারি হানাহানি
লেগেই আছে তাদের,
আমার সত্তা মন্দ সংস্পর্শে,
চোখে জ্বলে লোভের আগুন।
সেই আগুনের আঁচ
কাড়ছে সবুজ পাতা, নীরস করছে ভূমি।
শুধু তোমার প্রেম আনতে পারে
সেখানে এক প্রবহমান নদী।
সেই নদীর জলধারা আর
তোমার অনন্ত প্রেমধারা
ছড়াতে পারে আমার বুকে সবুজ রং,
পলকে পশুরা হবে নিরুদ্দেশ।
দক্ষতাটা
পুরোনো জামা পরে আরাম
তাই ফেলি না সহজে,
শুষে নিয়েছে দুঃখ–ঘাম
কষ্ট কম মগজে।
রুমালটার একই হাল
রাখি তাইতো পকেটে
শুষে নিয়েছে চোখের জল
চোখ হয়নি ঘোলাটে।
ঘামের তরে কষ্ট তাই
উদ্যমটা অশেষ,
বিষাদ শুষে রুমালটা যে
বন্ধু এক বিশেষ।
ঝোলানো জামা বহন করে
পথচিহ্ন হাজার,
ইতিহাসটা দেয় না দুখ
জীবন হয় মজার।
জামা রুমাল দুখ শোষণে
দক্ষতাটা শেখায়,
জীবন যেন এগোয় ধীরে
লক্ষ্য আছে যেথায়।
খেজুরিতে বেলাভূমির
বুনো বুনো গন্ধ মেখে
হাতছানি দেয় রাস্তা,
ডাকছে জোরে সাগরবেলা
আদিম তারই বার্তা।
খেজুরিতে বেলাভূমির
মৌলিকতা আস্ত,
সাগর ভাঙে ঢেউয়ের পাহাড়
বেলাভূমি ব্যস্ত।
সমুদ্রটা তটের সঙ্গে
ভাব বিনিময় করে,
অন্তরঙ্গ তারা কত
চোখে ধরা পড়ে।
মাঝখানেতে পর্দা টানে
ঘন ঝাউয়ের সারি,
সাগরের রাশ দেখে লাগে
একটু বেশি ভারি।
ঝাউ গাছেদের ডাল কাটা নেই
সবুজ পাতায় ভরা,
এই সৈকতে পা রাখলে যে
মিটবে মনের খরা।
অভিধান লুকোনো
এক মস্ত অভিধান লুকোনো প্রত্যেক মনে,
বারবার ব্যবহারে শব্দেরা চিত্র আঁকে জীবনে।
বেশি প্রয়োগে স্পষ্ট ছবির প্রান্তরেখা,
তাতে যেন গড়ে ওঠে এক অক্ষরেখা।
সে–রেখার চারদিকে ঘোরে যে জীবনখানা–
নিচে ব্যস্ত চিন্তা-কাজ, ঊর্ধ্বে শব্দ-সামিয়ানা।
সেই শব্দ অর্থ হলে শয়নে স্বপনে অর্থ,
অর্থের জন্য খারাপ পথে হেঁটেই জীবন ব্যর্থ।
শব্দ যদি মানবতা হয় জীবনের সার্থকতা,
থাক-না সেখানে টাকাপয়সার অপ্রতুলতা।
শব্দ বাছাইয়ের মাপকাঠিতে মানবতা থাক,
সবার জীবন থেকে মন্দ শব্দ চলে যাক।
ক্রমে ক্রমে মন থেকে তাড়িত হোক খুনি আসামি,
এই পৃথিবী সুন্দর হোক সুন্দর হোক আগামী।
নিয়ে গেলে শুধু
বেলাভূমিতে ঢেউ পাঠিয়ে
সাগর কি কিছু জানাতে চায়?
দুই তীরের জমিকে শস্যে ভরে
নদী কি কিছু জানাতে চায়?
আকাশ কি কিছু শেখাতে চায়
গ্রহ–তারার ছড়িয়ে আলো?
মেঘ কি কিছু শেখাতে চায়
ধরার বুকে বৃষ্টি পাঠিয়ে?
ভূপৃষ্ঠকে সবুজতা–ফল–ফুল–পশুপাখি দান করে,
পৃথিবী কি কিছু শেখাতে চায়?
তুমি শিখলে না এলে কাছে,
নিজের কথা বলেই গেলে শুধু।
আমার সাগর-নদী-আকাশের আর
নক্ষত্র-তারা-মেঘ-পৃথিবীর কথা
জানতে চাইলে না,
আমার কথা শুনতে চাইলে না
তাদের মতো দিতে শিখলে না,
নিয়ে গেলে শুধু আমার কাছ থেকে।
আমিত্ব-নাশের উপলব্ধি
ছেলেবেলায় যারা নিজের ছিল
তারা কোথায় হারিয়ে গেল!
পছন্দের খেলার উপকরণ, মাঠ
যেন কোথায় হারিয়ে গেল।
যারা ছিল খেলার বন্ধুবান্ধব
তারাও কোথায় গেল চলে।
স্কুলকলেজে যাদের ছাড়া
সময় কাটবে না ভেবেছিলাম–
যাদের একান্ত আপন মনে হত
তারাও কোথায় যেন সরে গেল।
কর্মস্থলে যাদের ছাড়া
এক–পা এগোতে পারতাম না–
তারা যেন হঠাৎ হারিয়ে গেল।
মাঝেমধ্যে শুধু এখন
দু–একটা ফোন আসে।
এ–বয়সে উপলব্ধি:
চোখ মেলে যা দেখি মনে হয় সব আমার।
যা–কাছে আসে যেন চলে যাবার জন্যে।
ছেলেবেলা আসে চলে যাবার জন্যে
ছাত্রজীবন আসে চলে যাবার জন্যে,
কর্মজীবন আসে চলে যাবার জন্যে
জন্ম হয় মৃত্যুর দিকে এগোবার জন্যে।
এখন মনে হচ্ছে সব কিছু আসে যায়
আমিত্ব-নাশের উপলব্ধি দিতে।
তবু নাশ হল কই?
কতবার জন্মাতে হবে কে জানে।
মাটির সোঁদা গন্ধ
হঠাৎ করে দেশের বাড়ি
মাটির সোঁদা গন্ধ,
নাকে যেতেই সিটির ছবি
লাগছে কেন মন্দ?
হঠাৎ করে উধাও হল
সেই ছবিটা নিমেষে,
ভালো লাগার রামধণুটা
উঠলো জেগে আকাশে।
হঠাৎ করে আলো মেঘেতে
রঙের তুলি আঁকছে,
দিগন্তটা ধনুক টেনে
তিরটা যেন ছুঁড়ছে।
ইমারতের উত্তাপেতে
মনের বীণা বাজে না,
সরস মাটি সবুজ পাতা
করে সুরের সূচনা।
গাইছে গান বাউল বায়
পাখি বজায় দোতারা,
কাঠবেড়ালি মনটা খায়
মিঠা কাব্য পেয়ারা।