বরাতের দরজাটা বন্ধ

বরাতের দরজাটা বন্ধ
বরাতের দরজাটা বন্ধ ভেতর থেকে
কারণ কেউ কি বলে দেবে?
ভেতরে যে বসে আছে দেখতে পায় না সে কি
সংসার চলছে কীভাবে?

ওই যে আসছে শীত উত্তর দিক থেকে
মন্দ বার্তা সব নিয়ে,
ছিন্ন পরিধানের সহস্র কারুকাজ
কুঁকড়ে গেছেই যেন ভয়ে।

নবান্ন উৎসবে সবাই ঘরে যখন
বানাবে পায়েস পিঠে নানা-
ফুটো চালে চাঁদ বলে এই উৎসব করা
তোদের পোড়া কপালে মানা।

সন্তানের বায়না পারি না মেটাতে আমি
দুখের তটিনী বুকে বয়,
কপালের মালিকের চোখেতে পড়েছে ছানি
উত্তরের হাওয়া কয়।

হয়তো তুমি আসবে

হয়তো তুমি আসবে
তুমি বলেছিলে আসবে, আসবে গোপনে।
সেই কথা জানতে পারেনি নদীর তরঙ্গ
জানতে পারেনি বকুল গাছটা
জানতে পারেনি আকাশের মেঘ
জানতে পারেনি দখিনা বাতাস
জানতে পারেনি আম-পাড়া গ্রীষ্মের দুপুর।
বিশ্বাস করেছি তুমি আসবেই,
বিশ্বাস করেছি ভালোবাসবে।
এই বিশ্বাসে কাটছে সারাদিন
এই বিশ্বাসে কাটছে সারারাত।
এই বিশ্বাসের লম্বা অদৃশ্য কেতন
যদি তোমার নজরে পড়ে
তোমার মনটা যদি প্রেমাতুর হয়,
তখন হয়তো তুমি আসবে
সূর্য-ওঠা দিন চাঁদ-ওঠা রাত
পাব আদপে দেখতে?

স্বপ্নের সবুজ চারাগাছ

স্বপ্নের সবুজ চারাগাছ
বুক শেলফে ব্যক্তিগত ডায়েরিটার
সব পাতা ভরে গেছে
আর পাতা খালি নেই।
কান পাতলেই দীর্ঘশ্বাস শোনা যায়।
প্রতিটি পাতায় আঁকা ছিল
টুকরো টুকরো ছবি স্বপ্নের।
আফশোস ছিল গোটা স্বপ্নটার ছবি
আঁকা হয়ে ওঠেনি।
একদিন প্রতিদিনের মতো
শেলফটা সাফ করছিলাম,
শুনতে পেলাম না সেই দীর্ঘশ্বাস।
সব পাতা তন্নতন্ন করে খুঁজলাম
সব আঁকা ছবি উধাও হঠাৎ।
মনের জানালা খুলে দেখি
উঠোনে নতুন স্বপ্নের সবুজ চারাগাছ
গজিয়ে উঠেছে, দৌড়ে গেলাম গোড়ায় জল ঢালতে।

ভাড়া বাড়ির দেয়াল

ভাড়া বাড়ির দেয়াল

ভাড়া বাড়ির দেয়াল আমি নিঃসঙ্গ বড়ই।
একাকিত্বের জীবন যেন কাটে না যে আর
এক পরিবার থাকে আজ আরেকটা কাল।
বৈচিত্র্যময় মানুষজন দেখেও আমার
বদল হল জীবনে কই? দাঁড়িয়ে নিঃসঙ্গ।
তাঁদের নানাবিধ পছন্দে আমি যে কাহিল-
বুকে আঘাত ঘুম আসে না বোঝে না যে তারা।
আমার সঙ্গে জাগতে থাকে টিকটিক ঘড়ি।

কত ঝগড়া কত–না প্রেম দেখেছে নয়ন,
আমার প্রেমে পড়ে না কেউ, ছিদ্র করে বুক।
আহত বুক নীরবে কাঁদে কেউ তো দেখে না,
ঘর সাজায় সানন্দে রয় আমি থাকি দুঃখে।
বিচিত্র সব মানুষ আসে তবু একাকিত্ব,
বিচিত্রতার মাঝে থেকেও নেই যে বৈচিত্র্য।

দেখা যায় নবারুণ

দেখা যায় নবারুণ
নেই কালো হাত নেই কালো রাত
নেই আঁধারের কালো থাবা,
উষার আলোক আছে– শাখে শাখে পাখি নাচে
ঠান্ডা বাতাস দেয় বাহবা।

এমন সুদিন পলকে পালায়
নিয়ে যায় সাথে বিজ্ঞাপন,
মনের ঘোড়াও মানবে না হার
লাগাম হাতে জীবনযাপন।

দাঁতে দাঁত চেপে লড়াইটা লড়া
চোখ হারায় না লক্ষ্য-আলো,
ঠিকানার পথ হোক না দূরে
পিনকোডে কি লেগেছে ধুলো?

আনাজের দামের উত্তাপে
জীবনযাপনের শরীরে ফোঁড়া–
তবুও সে রাজি ধুলো মুছে নিয়ে
ছোটাবে তার বিশ্বাস ঘোড়া।

এ-ঘোড়ার চোখ আঁধারেও জ্বলে
পথে থাক না অযুত কাঁটা–
রক্ত আঁকুক নকশা পথে
কান শুনবে আলোর ঘণ্টা।

শুনতে শুনতে অশ্বশক্তি
বেড়েই চলে হাজারগুণ,
ওই দেখা যায় আলোকের ছটা
ওই দেখা যায় নবারুণ

প্রাণের কাব্য

প্রাণের কাব্য
তোমার কথা বুঝতে বুঝতে
বাড়ে রাতের গভীরতা,
মনাকাশে তারার মতো
ফুটে ওঠে কিছু কথা।

কিছু কথার মানে ধরতে
কত–না ঢেউ সাগরে বয়,
বুদ্ধসম ধ্যান করেও
কিছুর অর্থ অধরা রয়।

তোমার কিছু মিষ্টি কথায়
সব ইন্দ্রিয় হয় জাগ্রত,
চিত্র থেকে স্পর্শ গন্ধ
শব্দ পেয়ে হই বিব্রত।

তোমার চোখের ভাষা পড়লে
আমি যেন হই গো ধন্য,
নতুন রূপের সন্ধান পেয়ে
বাঁচি আমি তোমার জন্য।

তোমার প্রেমে মজে দেখি
তোমার মুখটা সকল স্থানে,
তুমি আমার প্রাণের কাব্য
তুমি মলম ক্ষতস্থানে।

দায়িত্ব কর্তব্য বোঝা

দায়িত্ব কর্তব্য বোঝা
রাস্তা যখন পেরোতে হবে
ক্রসিং পেরোনো সুবিধে
কেন ধরব নিচের সাবওয়ে
কেন চড়ব ওভারব্রিজ ?
এমন শর্টকাটে মজা আছে
অ্যাডভেঞ্চারের টান আছে
বাড়তি দায়ের নেই ঘ্রাণ
অল্প খরচে অনেক প্রাপ্তি
অল্পে যেন বাজিমাত।
দুর্ঘটনা হতে পারে–
এই বোধ ঘুমিয়ে পড়েছে।
দায়িত্ব কর্তব্য বোঝা
নিয়ে হাঁটে সব বোকা–
এই মানসিকতা জেগে উঠছে ধীরে
সকল ঘরে সকল মনে।
দায়ের লাগাম না থাকলে
উন্নতির সিঁড়ি কাছে আসে না,
সাফল্য পাশ কাটিয়ে চলে যায়।
যখন দেখি সময় নেই।

সে সময়

সে সময়
ক্যালেন্ডারের পাতা বদলে দেয় এর হাত-
বদলের গতিবেগ মন্থর হয় না পথ অমসৃণ বলে।
আসলে সে যেন মাটিতে নয় ওপরে চলে।
লেনদেন নেই তার কারো সঙ্গে
কচি পাতা কচি কলি দেখার সময় নেই
কাঞ্চনজঙ্ঘার শিখর দেখতে থামে না সে,
ঝরনার রুপোলি রূপ টানে না তাকে।
পিঠে তার নির্দিষ্ট গতির দায়ের বোঝা
অঙ্গীকারবদ্ধ চোখে তার যেন ঠুলি বাঁধা
মাটিতে হাঁটে না, তাই সে উড়ন্ত।
ইতিহাসের সব পাতা পড়া
দাসপ্রথার নির্যাতনের সাক্ষী–
বর্তমানের রোজনামচা তার জানা
পথশিশুর খিদের সাক্ষী সে
তার চোখে ঠুলি বাঁধা-
অশ্রুপাতের প্রমাণ নেই।
সে সময়

তুমি আমার প্রিয়

তুমি আমার প্রিয়

তুমি আমার প্রিয় কারণ
তোমার মনে বিশেষ দোর-
অটোমেটিক ব্যবস্থাতে
বেজায় খুশি আপনজন।

সেন্সরটা খুব সহজে
ধরতে পারে কুজন কারা,
দোর বন্ধ তাদের তরে
কড়া হাতেই নিয়ন্ত্রণ।

তুমি আমার প্রিয় কারণ
তোমার মনে বিশেষ সেতু-
সব বন্ধু আপনজন
চিনতে পারে অনায়াসেই।

যখন তারা সাঁকোয় চাপে
বরণ করা গানটা বাজে,
আদর করা আপ্যায়ন
সম্পর্ক টিকিয়ে রাখে।

মায়া-মমতা-ভালোবাসার
আবাস যেন তোমার মন-
ক্লোন করে তা বিলিয়ে দেব
গড়ে উঠুক শুদ্ধ ধরা।

আমার কবিতা

আমার কবিতা
করোনা কালে বিরক্তি তাই তোমার নিকটে আসা,
চুম্বকের আকর্ষণে তোমার অথই জলে ভাসা।
হাবুডুবু খেতে খেতে কতবার আমি যে ভেবেছি-
আলাদা পথে চলেই যাব তবুও কি তা পেরেছি?
দূর দেশে পাড়ি দিতে ধরি নতুন দিকের রাস্তা,
ভেবেছিলাম থাকব সুখে দেব না তোমায় পাত্তা।
দূরে গিয়ে মনে পড়ে তোমার রূপের কারুকাজ,
পারি না ভুলতে কেন তোমার অলংকারের সাজ!
চলার রাস্তাটা ঘুরে-ফিরে পৌঁছোয় তোমার কাছে,
মনে হয় তোমার নিকটে এক চুম্বকই আছে।
নানাবিধ পথ নানান উদ্দেশে গেছি বহুবার,
ভুলভুলাইয়া পথটা দেখায় ঠিকানা তোমার।

সারাদিনের প্রেম তুমি যে – আমার কবিতা,
দিনরাত্রি তোমার সাথেই আলাপচারিতা।