আসল প্রেম

আসল প্রেম
তোর রূপের আলোক মেখে
দিলাম ডুব সাগরজলে,
চিলেরা ওড়ে ওপরে, মোতি
খুঁজতে যাই তোর অতলে।

এ-সন্ধানে সাগরতলে
যা–কিছু আছে হয়েছে জানা
মুক্তাসম সমান দামি
তবুও আজ কত অজানা।

ক্লান্তি এসে চেপে ধরে না
এ-সন্ধানে রয়েছে মজা,
মোতি খুঁজতে খুঁজতে যেন
পাই হস্তে প্রেমের ধ্বজা।

আসল মোতি কোন ঝিনুকে?
উৎসাহটা জিইয়ে রাখা-
আলোর টানে প্রেম-বৃক্ষ
তোর আকাশে মেলছে শাখা।

এই আকাশ আমার তোর
আসল প্রেম পাখির মতো,
একসঙ্গে গাওয়া গানে
সারিয়ে তুলি জীবন–ক্ষত।

মনন বৃক্ষ

মনন বৃক্ষ
এ-কেমন বঙ্গ সমাজ
যে-বাঙালি মননে চালাত রাজ
তার আজ এ-কেমন হাল?
মনন সত্তার যে-বৃক্ষের গোড়ায়
জল ঢেলেছিল রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ বিদ্যাসাগর রামমোহন রায়
রবীন্দ্রনাথ নজরুল সুভাষচন্দ্র,
সেই বৃক্ষের পাতারা সবুজতা হারিয়েছে।
গোড়ায় জল না দিলে এই হবে পরিণাম।
আগে রাস্তায় হাঁটতে গেলে
মোড়ে বটের পান্থশালা থাকত-
বিশ্রাম নিত সকলে।
বিপদের গন্ধে সখ্য সংবেদনশীল মন নিয়ে এগিয়ে আসত।
এখন দেখি যুবক বন্ধুত্বের বুক পাথরে নির্মিত-
ভাবাবেগ বন্ধ আর পাকস্থলীতে দেখি
মাদক দ্রব্যের কারুকাজ,
মাথায় দেখি বিকৃত নিউরোন।
তাহলে কি এই শীতে পাতাগুলো ঝরে যাবে?
নদীমাতৃক দেশটা মরুভূমি হবে মননে?
মনে হয় তা সত্যি হবে না।
কারণ সাধারণ মানুষ আজ
জেগে উঠেছে, হেঁটে চলেছে
সেই মহীরুহের দিকে মিছিল করে, প্রত্যেকের হাতে চেতনার মন্ত্রপূত জলের পাত্র।
এগিয়ে চলেছে, এক এক করে জল ঢালছে গোড়ায়। মনন বৃক্ষ বাড়ল বলে।

জয় আসবেই

জয় আসবেই
তুমি সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণী-
তোমার ভাবনার ব্রেন রয়েছে
সংবেদনশীল হৃদয় রয়েছে,
বিজ্ঞান রয়েছে সাথে।
যেতে পারো মুহূর্তে দূরের দেশে
তুমি চাইলেই উড়তে পারো আকাশে
ভাসতে পারো বাতাসে
যেতে পারো চাঁদে
যেতে পারো সাগরের অতলে,
পাতালেও প্রবেশ করতে পারো।
বিভিন্ন বিষয়ে অবিরাম চর্চা
করেছে তোমাকে দক্ষ।
দক্ষতা দেখিয়েছ সাহিত্যে শিল্পকলায় বিজ্ঞানে,
কখনো ভূগোলে ইতিহাসে অঙ্কে।
তোমার বিজয়রথ পৌঁছে গেছে সর্বস্তরে।
তবু কেন যুদ্ধ লড়াই চলছে,
কাকে হারাবার জন্যে?
তবু কেন খুন রক্তপাত-
তোমার উদ্দেশ্য কোন অভিমুখে?
ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে কেন?
বিকৃত মানসিকতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছ?
তুমি এতে নিজে নিজেকে পরাজিত করছ।
জিততে যদি চাও তুমি
মানবিক হওয়ার প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলো-
চেতনার চর্চা হোক বেশি করে।
মন্দ কিছু ঘটবে না।
জয় আসবেই একদিন।

আমার জীবনমরণ

আমার জীবনমরণ
পাশে যদি থাকো তুমি
কেন পটু কাজে?
তোমার বলা কথায়
মনোবীণা বাজে।

কেন যে তোমার ছোঁয়া
শিহরণ তোলে,
চোখের দৃষ্টিতে সব
কেন যাই ভুলে?

তোমাকে দেখলে কেন
বাড়ে হার্টবিট,
মরা গাঙে বান আসে
তুমি কালপ্রিট?

ভ্রমর বসলে ফুলে
ভ্রম করে বসি-
তোমার দু-চোখ দেখি
কাকে আজ দুষি?

তোমার কৃষ্ণবর্ণের
চুলে আঁকা ঢেউ,
দৃষ্টিটা পিছলে যেতে
দেখেছ কি কেউ?

লাল গোলাপ তোমার
ঠোঁটে কেন রাখা?
এই আবহ আমার
বাড়ায় আকাঙ্খা।

তার আগে খেয়ে যায়
কিস সমীরণ,
বোঝো না তুমি আমার
জীবনমরণ?

স্মৃতির চেয়ারে

স্মৃতির চেয়ারে
বয়সের ভারে বাঁকা শিরদাঁড়া
ঝরা বকুলের গন্ধ শুঁকি,
বকুল গাছের তলায় বসলে
প্রেমময় স্মৃতি মারে উঁকি।

বয়সের ভারে বাঁকা দেহ তবু
বসি পরিত্যক্ত নদীঘাটে,
পাশে বসে স্মৃতি শিহরিত দেহ
গোধূলি অরুণ যায় পাটে।

যে–চেনা সাঁকোয় পরিচয় হল
নিকটে গেলে সে ডাকে বুঝি,
হারালে কোথায় কোন ধরা কোণে
ঘুরে ঘুরে তোমায় আজও খুঁজি।

অভিমানের রুমাল ধরে
ছুঁড়লে অভিযোগের বান,
হঠাৎ গেলে কোন দেশেতে
ত্যাগ করে এই অভিযান।

তাইতো এখন অভিমুখ
আমি বদল করেছি,
স্মৃতির চেয়ারে হেলান দিয়ে
কবিতা লিখতে বসেছি।

তছনছ করে দিক

তছনছ করে দিক
পৃথিবী জুড়ে একটা নিম্নচাপ সৃষ্টি হোক
আসুক প্রবল ঘূর্ণিঝড়-
তছনছ করে দিক অযত্নে গজিয়ে ওঠা
সব বেড়া সব ঘর মনের ভেতর।
ভেঙে যাক বেড়া অবাধে ঢুকুক স্নেহ–দয়া–মায়া,
সমূলে নিশ্চিহ্ন হোক অবাঞ্ছিত হিংসা–ঘৃণা–দ্বেষের আস্তানা।
প্রবল বর্ষণ হোক সিক্ত হোক মৃত্তিকার নীরস শরীর,
ভালবাসায় উর্বর হোক মনের পৃথিবী।
এমন উর্বর হোক শুষ্ক মরুতে থাক মরুদ্যানের আধিপত্য,
কঠিন পাহাড় গলে হোক ঝরনার জল,
গজিয়ে উঠুক সবুজ বনভূমি আর সবুজ জনপদ।
সকলের হৃদয় ভরুক ফুল আর ফলে ।

স্বপ্নেরা চিঠি পাঠায়

স্বপ্নেরা চিঠি পাঠায়
স্বপ্নেরা চিঠি পাঠায়
আকাশের ডাকঘরে,
কী বার্তা বহন করে
জানব কেমন করে।
মন-পাখি উড়ে যায়
খোঁজ নিতেই দুবেলা,
ডাকবাক্সের চাবিটা
মেঘ নিয়ে করে খেলা।
মেঘ তুই খেলিস না
দিয়ে দে-না চাবিখানা,
চিঠিগুলো না পেলেই
বিফল জীবনখানা।
দূরে থাকা ডাকবাক্সে
কী-এমন স্বপ্ন ভরা
না দেখলে উচাটন
আমার ধরায় খরা।
এবার তো পাখিটাকে
দিয়ে দে–না স্বপ্ন সব,
পৃথিবীতে আনা হোক
করুক ফল প্রসব।

জীবন জ্যান্ত

জীবন জ্যান্ত

পথিক আমি কাঁধে ঝুলি
হাঁটছি নিত্য গ্রন্থমেলায়,
ভালো পুস্তক পেলে ভরি
সঙ্গী আমার ভ্রমণ খেলায়।

এই পথিকের ক্লান্তি উধাও
পছন্দসই বইটা পেলে-
আদ্যপ্রান্ত পড়ার শেষে
পেটের খিদে উঠে জ্বলে।

যাত্রাপথের দুধারেতে
কতশত বই সজ্জিত,
আগ্রহী থাক চক্ষু আমার
পড়ে ফেলুক সব সৃজিত।

বৃক্ষ নদী পাহাড় মানুষ-
মেলে ধরা বইয়ের পাতা,
তথ্য জানার কায়দা জানলে
ভরে যাবে হাজার খাতা।

এই ভ্রমণে শেখার শিখা
দীপ্তি ছড়াক চতুর্দিকে-
সত্যিকারের জীবন জ্যান্ত,
শিরদাঁড়াটা সোজা রাখে।

আনন্দেতে সবাই ভাসুক

আনন্দেতে সবাই ভাসুক

শিশিরধৌত মন এনো গো
সাথে এনো ভালবাসা,
দ্রাক্ষালতার প্রেমে সরাও
দেওয়ালের নিরাশা।

নম্র রোদের পরশ এনো
শীতে কাঁপা শিশু–বুকে,
সমবেত গীত এনো আজ
সব মানুষের মুখে।

সাথে এনো হাতকড়ি
মৈত্রী যার উপাদান,
দাও পরিয়ে সকল হাতে
লেখো প্রেম–উপাখ্যান।

তোমার সুখে আমার সুখ
সকলকে দাও ভাগ,
আনন্দেতে সবাই ভাসুক
নেই কোনো শ্রেণীভাগ।

শ্রেণীভাগের প্রাচীর ভেঙে
বিপন্নের হাত হাতে,
মানবশৃঙ্খল গড়ে দিয়ো
বলো আছি একসাথে।

মন সুনীল আকাশ

মন সুনীল আকাশ
ষড়যন্ত্রের সাক্ষর করা ইটগুলো বলে
চাই না বেঁচে থাকতে বুকে কালি নিয়ে,
ভেঙে দাও মনের এই দালানকোঠা।

বাইরের সৌন্দর্য চাই না আমাদের,
চাই ভেতরে নদীর মিষ্টি জলধারা-
ভালোবাসা বয়ে যাবে সাগরের দিকে।

চাই অন্তরে প্রেরণা থাক আকাশের মতো,
চাই সেখানে উড়ুক স্বপ্ন-পাখি
উড়াল দিক পাখনা মেলে নিরাশাকে ফেলে।

তাই এই দালানকোঠা ভেঙে দাও,
নতুন করে গড়ে তোলো নতুন ইট দিয়ে-
মাখানো থাকবে শান্তি, ভালোবাসা
দয়া-মায়া আর সদর্থক শব্দ এবং উপলব্ধির নির্যাস।
তারপরে ।