যে-মাটির ধুলো মেখে
আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছি শৈশবে,
হঠাৎ দেখি পায়ের নীচে সে-মাটি কখন গেছে উবে।
যে-বটগাছটা কঠিন সময়ে একটু দিত শান্তি-ছায়া,
সে-গাছটি কেন আজ ন্যাড়া-
দিচ্ছে এখন অশান্ত উষ্ণ ধোঁয়া?
যে-দিঘির জল আমার কপালে মায়ের হাতের জলপট্টি মনে হত,
সেই দিঘির দূষিত জল আজ শরীরে সৃষ্টি করছে ক্ষত।
যে-চাতালে চলত কীর্তন, মন আনন্দে উঠত মেতে,
পরনিন্দা পরচর্চা জোর কদমে চলছে সেখানেতে।
যে-হাসপাতাল বড় ছেলের প্রাণটা করেছিল রক্ষা,
সেখানে এখন অর্থ তছরুপের বুভুক্ষা।
যে-কাদায় পা পিছলে গেলে
সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতই খেলার বন্ধুরা,
আজ পরস্পরের দিকে ছুঁড়ে চলেছে সেই কাদা তারা।
পায়ের তলায় মাটি নেই বটবৃক্ষের ছায়া নেই-
মমতাময়ী স্নেহ নেই, সত্যিকারের সৃজন নেই-
সাহায্যের হাত নেই; হারাল বুঝি কালের স্রোতে?
তবুও আশায় থাকি সবকিছু ফিরে আসবে আবার এক নতুন প্রভাতে।