দাও পাঠিয়ে

দাও পাঠিয়ে
দাও পাঠিয়ে রোদের আগুন সূর্যদেবের হাতে-
শুদ্ধ করার শক্তি থাকুক সেই আগুনের গাতে।

দাও পাঠিয়ে রসাল ফল পরিশুদ্ধ খাদ্য,
পরম শুদ্ধির মুকুট পরে গ্রীষ্ম বাজাক বাদ্য।

বাজনা বাজে শুদ্ধি নাচে অশুদ্ধি যাক ছেড়ে,
মুক্তি পেয়ে শুদ্ধ সত্তা উঠুক হাত-পা ঝেড়ে।

দাও পাঠিয়ে বৃষ্টিধারা ভেজাক পাথর বুকের,
যাক-না গলে কঠিন মনন দিনটা আসুক সুখের।

সবুজ ফসল ফলুক আবার বৃষ্টিধারার কালে,
ইতিবাচক জোয়ার আসুক আবার মনন খালে।

শুচি শুভ্র শরৎ আনুক শুচিতা সব মনে,
আগমনি উঠুক বেজে হৃদয় কোণে কোণে।

উৎসবে সব উঠুক মেতে উৎসাহ থাক কাজে,
নেতিবাচক অসুর হারুক পালাক ভীষণ লাজে।

হেমন্তকাল দাও পাঠিয়ে সোনার ফসল ফলুক,
মনের ঘরে আশার আলো নবান্ন আজ জ্বালুক।

দাও পাঠিয়ে শীতের ঠান্ডা সবজি সবুজ করা-
সতেজতা আঁকুক ছবি দেখুক মনের ধরা।

ঋতুরাজকে দাও পাঠিয়ে মনে বাঁধুক বাসা-
মনের যৌবন থাক চিরকাল জীবনটা হোক খাসা।

মেঘের গতিপথে

মেঘের গতিপথে
আমার বাড়ির চাঁদোয়া-আকাশে
সুখের শুভ্র মেঘ উড়ে বেড়ায়-
মতিগতি তার অস্থির বড়ই
কখন কার বাড়ি পালায়।

পাখা মেলে সে ঘুরে বেড়ালে
পরিবারটা তার ছায়াতে-
হাসে ভালোবাসে আনন্দ ছড়ায়
আত্মীয়রা আসে অজুহাতে।

মাঝে মাঝে দেখি হঠাৎ আকাশে
চিহ্ন রাখে না কোথা সে যায় চলে,
জাদু কে দেখাল? দুঃখের অলক
পলকে এল সেথায় ইন্দ্রজালে?

কালো মেঘগুলো কত যেন কাছে
আঁধার পাঠিয়ে করে পরিহাস,
বিচলিত মন বিভ্রান্তির পথে-
হোঁচটে হারায় আত্মবিশ্বাস।

আঁধার-আশ্রয়ে নেই আলো জ্বালা
শাসনে শোষণে ব্যস্ত দুঃখ-রাজ,
সোফা খালি পরিজন বসে নেই
বিষাদের সুর বাজায় এসরাজ।

বিষন্ন প্রহরে বিষাদের সুরে
মাথাগুলো হয় একজোট-
মেপে নেয় তারা নিজেদের শক্তি
কারা বন্ধু কারা বা সাপোর্ট।

মেঘের সাদা বুক চেরা আলোতে
সুখের কপোত খুঁটে খায় দানা,
কালো মেঘে আকাশ ভরলে
কারা বন্ধু কারা বা স্বজন যায় জানা।

সাদা অথবা কালো মেঘের
গতিপথে জীবনটা ঘোরে,
সুখে-দুঃখ নাড়ুক-না কড়া
জীবন-প্রীতি যাবে না মরে।

এই শৃঙ্খল

এই শৃঙ্খল
এই শৃঙ্খল প্রকৃত অর্থে বাঁধেই না
দেয় খোঁজ এক অদৃশ্য মুক্তির-
যে-মুক্তি গচ্ছিত রাখে বিশেষ ঠিকানা
মেনে চলে যেন বয়ান চুক্তির।

চুক্তিটা বানানো নিজের সঙ্গে নিজের,
থাকে না ঝোলানো কারোর নির্দেশ।
মুক্তির আকাশ থেকে যায় তারা পাড়া
সোজা শিরদাঁড়া, নেই ছদ্মবেশ।

লুকিয়ে রাখার নেই কোন প্রয়োজন
অনায়াসে ঠিক পথ আসে চলে,
দুর্নীতির অবসর গড়ে সুন্দর সমাজ-
যা মানবতার কথা শুধু বলে।

চেতনার আংটা দিয়ে তৈরি এ-শৃঙ্খল
বেঁধে দিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সকল,
আচারবিচার কাজ মেনেই চলুক
এক সুস্থ জীবনের প্রোটোকল।

আনবে কোন সে বিমা

আনবে কোন সে বিমা
জীবনিবমা স্বাস্থ্যবিমা ঘরের বিমা
সুরক্ষার দেয়াল গড়েছে চারদিকে-
বিমা কোম্পানিরা এমনই বলে।
চোখগুলো তবু আপদেবিপদে
তাকায় কেন উপরদিকে?

বিমার দেয়াল গজিয়ে উঠেছে
সভ্যতার বেড়েছে বিস্তার,
তবু সুরক্ষা উধাও কেন
কেন ধর্ণায় লক্ষ বেকার?

বাজারে শিক্ষার বেচা-কেনা কেন
স্বাস্থ্য-পরিষেবায় কেন ব্যবসা,
পথে শৈশব ক্ষুধার্ত কেন
কেন প্রাণ মারে এত হিংসা?

বৃদ্ধাশ্রমগুলো ভরে ওঠে কেন
কেন বাকস্বাধীনতার মস্তক নত,
প্রকৃতি মাতা বিবস্ত্র কেন
কেন মানব-চেতনা নির্বাসিত?

মনের দূষণ সীমাহীন কেন
দুর্নীতি কেন সকল স্তরে,
ভীতি ও তার আত্মীয় স্বজন
কেন ঘাঁটি গেড়েছে মনের ঘরে?

আসবে কোন বিমাকোম্পানি
আনবে কোন সে বিমা
তোমার আমার স্বপ্নের সুরক্ষা দিতে?

প্রাণের বান্ধব

প্রাণের বান্ধব

প্রাণের বান্ধব হয়ে এসো
সময়ের দূত হয়ে এসো না গো-
কেন-না সময় করেছে অচল
হৃদয় নদীর স্রোত।
শুকিয়ে গেছে হৃদয়, চোখ-
কালে কালে তাই হৃদয়ে পাথর,
অক্ষিকোটরে যে পাথরের চোখ।

দেওয়া-নেওয়া বন্ধ আজ তাই হৃদয় অক্ষম,
পাথরের মত কঠিন নির্দয় কাজে দেখাই যত উদ্যম।
যান্ত্রিকতা তাই ছুটছে কেতন হাতে,
সলিলের দেখা নেই আর সমবেদনা-প্রপাতে।

চোখ দৃষ্টি হারিয়েছে কবে
অশ্রুবারি জন্মায় না আজ,
প্রতিবেশীর কষ্ট দেখেও
আমার কপালে পড়ে না ভাঁজ।
ভালোমন্দের বিচার ঘরে কে মেরেছে তালা?
বেঠিক পথের হাতছানি ঝরায় লোভের লালা।
ভালোবাসা আজ পাথর চাপা
দেখেও কাঁদে না চোখ,
এসো বন্ধু এবার এসো বাঁচাও তোমার ভুলোক।

আমায় জড়িয়ে ধরুক-না তোমার উষ্ণ আশ্লেষ-
গলিয়ে দিক তা হৃদয় পাথর
কৃত্রিম দৃষ্টির করুক বিনাশ,
সমব্যথায় হোক সজল চোখ।

ভালো মানুষ

ভালো মানুষ
ভালো মানুষ বড্ড একা
আপদবিপদ বানায় বোকা খুব সহজে,
মন্দ মানুষ সংঘবদ্ধ
অপদবিপদ ঘটায় তারা অনায়াসে।

সমীকরণ এমন তাইতো
অন্ধকার খুব ঘন হয়,
পাতলা আলোর বানানো তির
কেমন করে ছিন্ন করে ঘন আঁধার ?

বাড়বাড়ন্ত শয়তান আঁধার
দেশের বৃদ্ধি আটকে রাখে,
স্বাধীন দেশের বয়স বাড়ে
তবু কেন হয়নি বড় ভাবনা চিন্তায়?

বড় ভাবনার জন্য চাই বড় হৃদয়
বড় হৃদয় হাজার প্রদীপ-
জ্বালতে পারে অনায়াসে ভাবনা শিখা।
এমন প্রদীপ সৃষ্টি করা দেশের দায়,
এতে আছে সৃষ্টি কর্তার বড় সায়।

সঠিক শিক্ষা সঠিক পুস্তক দিক-না গড়ে
লক্ষ শৈশব বিদ্যালয়ে, হোক-না তারা
লক্ষ প্রদীপ জ্বালুক ত্বরা লক্ষ শিখা,
ঐক্যবদ্ধ হয়ে তারা আঁধার পর্দা দিক-না ছিঁড়ে।
সংঘবদ্ধ হবে আবার ভালো মানুষ।

চার দেয়াল

চার দেয়াল
ঋজুরেখায় শিরদাঁড়া তোদের
কাঁধে রাখিস ছাদের ভার,
শুধু দিনরাত পাহারা বেষ্টনী
বৃষ্টি রোদের মুখটা ভার।

চার দেয়াল, তোদের মাঝে
পরিবার তার স্বপ্ন বোনে,
সাক্ষ্য রাখে তোদের শরীর
সকল ছবি ছাদটা গোনে।

সম্পর্কের আলপনা আঁকা
মেঝের বুকটা ওঠে ফুলে,
রঙিন ঘরের ছবিখানা
তোদের গলায় যেন ঝোলে।

তোরা শুধু বাঁচিয়ে রাখিস
ঘরের ভেতর কৃষ্টি সৃষ্টি,
সুখ-দুঃখ কামড় দিলেও
কেমন করে হাসিস মিষ্টি?

তোরা আছিস তাইতো ঘর
থাকার খাওয়ার আশ্রয়,
বিচারবুদ্ধি সঠিক থাক
পরিবেশ শান্তিময়।

আমি শৌখিন সভ্যতা

আমি শৌখিন সভ্যতা
প্রথম যখন হাঁটা শুরু
দুচোখে বুনেছিলাম স্বপ্নজাল।
প্রশান্তির স্রোত ছিল রক্তে,
চোখের মুখের কোণ থেকে
হাসি ঝরে পড়ত অজান্তে।
সমুদ্রের তরঙ্গ দেখলে আমার মনটা গাঙচিল হয়ে উড়ত পাখনা মেলে।
ছেড়েছিলাম কখন গুহার আবাস,
ছেড়েছিলাম কখন গহিন বনজঙ্গল-
স্মৃতি থেকে গেছে আজ মুছে।
হেঁটেছি অজস্র পথ,
অবিরাম হাঁটছি এখনো নাগরিক পথে-
পায়ের পেশি শক্ত হয়েছে।
সময়ের সুসজ্জিত আয়নাতে
যখন দেখি নিজেকে, মুখে দেখি আঁকা
গাম্ভীর্যের কারুকার্য, গেল কোথায় নিষ্পাপ ভাব!
অনিদ্রা চোখের কোলে সাক্ষর করেছে,
ক্লান্ত চোখ রাতের আঁধারে ব্যস্ত ঘুমের আরাধনায়।
মুখমন্ডল এখন ধূসর পাথর
হৃদয়ে হৃদ্যতা নেই নেই ভালোবাসা,
চারদিকে ছড়ানো যন্ত্রণা ক্ষত-
যত হাঁটছি তত ঝরছে রক্ত।
আমি শৌখিন সভ্যতা – ক্লান্ত অবশ পা।

বন্ধু আমি

বন্ধু আমি

বন্ধু আমি কালের স্রোতে
উৎসাহহীন হয়েছি আজ,
বিষাদ আগে জ্বলে গেছে
অনুপ্রেরণার সকল সাজ।

শ্রমের প্রহার খেয়ে খেয়ে
কালশিটে দাগ দেহে মনে,
প্রেরণা-বাম ক্ষতে দিয়ো
চাঙা করো মনে প্রাণে।

পাহাড় থেকে ঝরনার উদ্যম
এনো বন্ধু আমার তরে,
বন্ধু এমন সিক্ত করো
নিরাশ ধুলো ভিজেই মরে।

আকাশগঙ্গা থেকে আনা
জলে আমায় করো সিক্ত,
সেই সলিলের স্পর্শ করুক
অনুপ্রেরণায় সম্পৃক্ত।

চোখের মনের চোখ বদলাবে
দেখবে পৃথ্বী প্রেরণাময়,
মঙ্গলজনক কর্ম আনবে
বসুন্ধরায় সেই সুসময়।

মৌচাক

মৌচাক
মৌচাক – মধুর সংরক্ষণ,
মধু-সৃষ্টির কর্মে ব্যস্ত
কর্মী মৌমাছি, সারাটা জীবন
সঁপে দেওয়াতে অভ্যস্ত।

কিলোমিটারের হিসেব রাখলে
হবেই ব্যর্থ মধু আহরণ,
মধুগ্রন্থির মধুরস দিতে
কুসুম সকল করে কি বারণ?

শতেক ফুলের অবদান আর
মধুকরদের পরিশ্রমটা-
উপেক্ষা আর মধু চুরি করে
অমানবিকতা বাজায় ঘণ্টা।

খাদ্য মজুত মধুচক্রেই
খারাপ সময়ে আশিস আনছে,
নিজের স্বার্থ চরিতার্থেই
অপরের ঘর মানুষ ভাঙছে।

এমন মন্দ কাজের ফল তো
পাচ্ছে মানুষ হাতেনাতেই
হাজার দুখের মধুকরগুলো
হুল ফোটাচ্ছে প্রতি পলেতেই।