প্রশ্নগুলো

প্রশ্নগুলো
হাড় কাঁপানো ঠান্ডা আসে
টাক ফাটানো রোদ ও আসে-
মন ভেজানো বৃষ্টি কই?
কোথায় গেছে সে কোন দেশে?

আমগাছেরা ফল ও ছায়া এখনো দ্যায়
ফুল ও ছায়া বকুল বৃক্ষ এখনো দ্যায়-
বট অশ্বত্থ কোথায় গেল ভাই?
সেই অচিনপুর আছে কোথায়?

ময়ূর নাচার দৃশ্য দেখি বেশি
টুনটুনির ও কিচিরমিচির শুনি বেশি,
পায়রার সংখ্যা বাড়ছে দ্রুত-
চড়ুইরা কি হচ্ছে অবলুপ্ত?

ঘরে ঘরে স্নানের ঘর আজ
স্নানটা সারে সবাই সেথা,
কজন সারে পুকুরে স্নান?
অব্যবহার মজায় পুকুর
মজায় দিঘি বাড়ছে দূষণ
পরিযায়ী পাখিরা কি ক্ষুণ্ণ এখন?

কোথায় পেলাম প্রশ্নগুলো? ঢুকল কানে?
উত্তর শুনব না আর- তুলো কানে।

চাঁদ-তারা হয়েছে নিখোঁজ

চাঁদ-তারা হয়েছে নিখোঁজ
ওয়াশিং মেশিনের বাড়ে কদর
উল্কা গতিতে ছুটছে দর,
দেহের মনের জামায় ময়লা
সাফ করবে এটি সত্বর।

এই মেশিনে কাচিয়ে নিলে
সময় বাঁচে বাঁচে না দাগ,
দৈহিক শ্রমের নেই প্রয়োজন
গ্যারান্টি তার একশোভাগ।

বিজ্ঞাপনের কেরামতিতে
দোকানগুলোয় ভিড় বেশ,
ক্লেদমুক্তি আশু প্রয়োজন
প্রয়োজন সাফ অঙ্গ-বেশ।

উপরিভাগের দাগ মেটাতে
সাধারণ মেশিন সক্ষম আজ,
অন্তরে ক্লেদ, সাফা করতে
কোন মেশিন করবে কাজ?

হিল্লিদিল্লি বিদেশবিভুঁই
সেই মেশিনের নেই যে খোঁজ
ক্লেদ-মেঘে আকাশে তাই
চাঁদ-তারা হয়েছে নিখোঁজ

কাব্য তুমি

কাব্য তুমি
একলা থাকি তোমার সাথে
সংগোপনে ঘরের কোণে,
বন্ধ থাকুক ঘরের কপাট
স্বর্গ নামে সন্তর্পণে।

খুনশুটিতে সময় গড়ায়
নততলে গড়ায় দিবস,
ভাঙ্গি গড়ি তোমার দেহ
সৃষ্টির নেশা করে বিবশ।

বউয়ের সঙ্গে হয় না কথা
চা-টিফিনে সময় দেওয়া,
ঝরনা গড়ে কাব্য-নদী
সৃষ্টিসুখের বহে হাওয়া।

শব্দরাজি বড়ই পাজি
দেয় না ধরা অনায়াসে,
উপাদানের বড়ই অভাব
হাতড়ে খুঁজি মনাকাশে।

সারাদিনভর এমন চললে
ব্যথা এসে মারে টোকা,
কাব্য তুমি দাও না ধরা
ব্যর্থ আমি বুড়ো খোকা।

এমন একদিন আসে আবার
সব উপাদান কড়া নাড়ে-
কলম চলে তরতরিয়ে
তোমার দেহের বৃদ্ধি বাড়ে।

তোমার আমার হৃদ্যতাতে
আকাশ ভরে সুখের অলক,
তোমার চোখের সাগর টানে
হাজার জন্ম হই অপলক।

আমি জীবন

আমি জীবন
তোমার আশ্লেষ উষ্ণ হলে
ছড়াই স্নিগ্ধ উত্তাপ,
ভালোবাসলে আমায় তুমি
দেব লোহিত গোলাপ।

পাথর ভাবলে পাথর বনি
প্রতিক্রিয়া আমি-
প্রতি ধাপে সঠিক ক্রিয়া
আমার কাছে দামি।

যেমন রূপে চাইবে আমায়
তেমন সাজতে পারি,
হরেক স্বাদের জন্যে বানাই
হরেক রকম কারি।

ইতিবাচক ভাবনা কাজে
আমার জেল্লা বাড়ে,
সফলতার মুকুট তোমার
সবার নজর কাড়ে।

উলটো ভাবনা উলটো কাজে
ভরাও যদি ঝোলা,
আমি তখন বন্দুক হাতে
ছুঁড়ি দুঃখের গোলা।

আমি জীবন তোমার কর্মে
গড়ায় আমার চাকা,
সঠিক ক্রিয়াকাণ্ড হলে
দিই না তেমন ধোঁকা।

ভাবনা দোলায় দুলছে

ভাবনা দোলায় দুলছে

যুদ্ধ চলছে দুদেশে
শান্তি হুইলচেয়ারে,
আমার ভাবনা দোলায় দুলছে

পূর্ণচন্দ্র দেখে চোখ
খিদেয় জ্বলে উদর,
আমার ভাবনা দোলায় দুলছে।

স্বর্ণপদক ঝোলায় রাখা
দুঃস্থ খেলোয়াড় আর তার পরিবার,
আমার ভাবনা দোলায় দুলছে

ধর্ষণ-খুন-জখম নিত্যদিনের ঘটনা
চেতনা হুইলচেয়ারে,
আমার ভাবনা দোলায় দুলছে

শিক্ষা-স্বাস্থ্য-চাকরি বিক্রি
দুর্নীতি বসে সিংহাসনে,
আমার ভাবনা দোলায় দুলছে।

বিবস্ত্র প্রকৃতি কাঁদে
বহুতল আবাসনে এসির হাওয়া,
আমার ভাবনা দোলায় দুলছে

মানবতা মুমূর্ষু

মানবতা মুমূর্ষু
নির্জন বাড়িটা অসহায় আজ-
কঠিন রোগে আক্রান্ত রোগীটাকে নিয়ে।
বাঁচার আশা রয়েছে কি না
বলতে পারে ভবিষ্য!
কাছের সুজন ছিল যারা
চলে গেছে দূরে তারা।
এখনও কিছু খাবার ওষুধ পড়ে আছে
প্রাণবায়ু হয়নি নিঃশেষ।
স্বচ্ছ কাচের জানালা দেখে
যারা ছিল রোগীর দেখাশোনায়
ফেলে গেছে তারা তাদের মনের বর্জ্য
জানালার পাশে- যেখানে আকাশ এসে কথা বলে যেত, চাঁদের টুকরো হাসি
শোনা যেত জানালার কোণে কোণে।
আর এখন প্রতিটি রাতে
বনের পশুরা এসে সেই বর্জ্য চেটে তাদের পুষ্টি বাড়ায়। রোগীর ভয়ার্ত চোখ দেখে
তার স্বপ্নের বিনাশ। মানবতা মুমূর্ষু

ফিঙের নাচের কীর্তি

ফিঙের নাচের কীর্তি
গাছের পাতারা আলোকের জালে
খেলে যায় শুধু এমন প্রভাতে,
দূর আকাশের সূর্যটা খুশি
গাছের খুশিও উপচায় তাতে?

খুশির আবেশে বাতাস বাজায়
একতারা থাকা পল্লব ঘরে,
টুনটুনি আর দোয়েল ময়না
কণ্ঠ মেলায় তার সুরে সুরে।

কোত্থেকে এক ফিঙ্গক আসে
তালে তাল রেখে নৃত্য দেখায়,
ঘাসের গালিচা ধন্য হয়েই
নম্র রৌদ্রে স্নান করে যায়।

সহস্রবার জন্মাতে পারি
মেলবন্ধন এমন দেখতে,
প্রেরণা দায়ক চিত্রকল্প
পারিও জীবনে আঁকতে।

সেই ছবিটির শরীর রাঙানো
গলায় গানের স্ফূর্তি-
পারলাম কই রাখতে জীবনে
ফিঙের নাচের কীর্তি?

দাও-না এনে দুঃসাহস

দাও-না এনে দুঃসাহস
গতানুগতিক জীবনটা হারিয়েছে গতি,
বৈচিত্র্যহীন পথেই হাঁটা মনটা অস্থিরমতি।
দিচ্ছে বাধা পথের ঘর্ষণ বেহায়া বড়ই,
প্রভাবটা তার কাটাতে চাই কাটাতে চাই।

না কাটালে চোখে পর্দা, যায় না দেখা চাঁদের হাসি-
আবদ্ধ প্রাণ বাঁচাতে ভাঙছি,
ভাঙছি জানালা-শার্সি।

এমন বাধা কাটাতে চাই-
না কাটালে- বহাল যেন টানাগাড়ি টানতে।
সব ঋতু বিরক্তির পাউডার মেখে করছে যে জ্বালাতন,
বসন্ত আজ কোথায় গেল?
আসে না করতে আলাপন।

বাধাটা তাই কাটাতে চাই টানাগাড়ি চাই না টানতে,
দুঃসাহসের বলটা চাই ঘর্ষণের দুহাত ভাঙতে।
তাইতো প্রভু দাও-না এনে দুঃসাহস মনে-
পথের মুখে ঝামা ঘষেই পথের কাঁটা সরাই ।
জীবনটা হোক গতিশীল মজাদার,
হোক সুস্বাদু মালাই।

দেউলিয়া মনেপ্রাণে

দেউলিয়া মনেপ্রাণে

সাগরের ঢেউ ওঠে
দৃষ্টিটা আমার ছোটে-
তরঙ্গের খেলা দেখতে দেখতে
সেই সৌন্দর্যে আসক্তি বেড়ে গেল।
আকাশের চাঁদ দেখতে দেখতে
চন্দ্রাসক্তি বেড়ে গেল।
অবিরাম বৃষ্টিধারা দেখতে দেখতে
বৃষ্টির আসক্তি বেড়ে গেল।
টিভিতে নেতিবাচক দৃশ্য দেখতে দেখতে,
খবরকাগজে খুন-জখম-ধর্ষণ-দুর্নীতির কথা পড়তে পড়তে,
নাবাচক কাজের আসক্তি বেড়ে গেল।
টিভির টিআরপি বেড়েই গেল
খবরকাগজের বিক্রিও বেড়ে গেল।
খালি আমি আর দেশ দেউলিয়া মনেপ্রাণে
কারোর কি কিছু এসে গেল?

ডানা মেলা ভাবনারা

ডানা মেলা ভাবনারা
ভোরের আলোয় মনটা
আমার দরজা দিল খুলে,
জামাজুতো ব্যাগটা কাঁধে
যায় যে তারা স্কুলে।

ঘরটা তখন এক তপোবন
শান্তি করে বিরাজ,
হালকা হয়ে ধ্যানে বসে
শান্ত মনের স্বরাজ।

স্কুলটা তাদের দেয় গো পুস্তক
অনেক পড়ে তারা,
দিনের শেষে বাড়ি ফেরে
দেখে পাড়া সারা।

নিত্যদিনের এমন রুটিন
ছাত্রগুলো মানে,
ফিসফিসিয়ে কাব্যকথা
শোনায় তারা কানে।

রাতের বেলা আকাশ যখন
লক্ষ দিয়া জ্বালে,
কাব্যরেণু ভরা কুসুম
ফোটে গাছের ডালে।

কলম তখন লিখে চলে
কাব্য রাতের বেলা,
ডানা মেলা ভাবনারা যায়
আকাশগঙ্গার মেলা।