আমার বালুকাবেলা শেখে

আমার বালুকাবেলা শেখে
আমার বালুকাবেলা দেখে
অনেকটা কাছ থেকে দেখে
ঢেউয়ের উৎসাহ দেখে-
দেখে তার ভেঙে পড়া
ভাঙার পরেও তারা কত উৎসাহী
দেখে শুধু দেখে।
আমার বালুকাবেলা শেখে
উৎসাহ বলে কাকে।

আমার বালুকাবেলা তাই
আনন্দে পুলকে ভেজে
সাগর সলিলে ভেজে-
কখনো বা পা ভেজায় কখনো শরীর,
ভেজার আনন্দ নিতে ভেজে শুধু ভেজে।
আমার বালুকাবেলা শেখে
কী করে সর্বদা আনন্দে থাকতে হয়।

আমার বালুকাবেলা প্রেমের কাঙাল
সাগরের প্রেম পেতে নড়ে না কোথাও-
প্রেমের জলে সিক্ত হওয়া একমাত্র লক্ষ্য।
আমার বালুকাবেলা শেখে
প্রেম পেতে কী করে লেগে থাকতে হয়।

তুমি যখন

তুমি যখন

কখনও চোখ গোলাপ দেখে
কখনও বা বকুল,
তুমি যখন সামনে আস
গঙ্গা ভাঙে দুকূল।

কখনও চোখ বিপদ দেখে
অধীর তবু হয় না,
নিমেষে এক বন্ধু হয়ে
এসে কথা কও-না।

কান্না ভেজা দৃষ্টি আমার
কানটা করে সজাগ,
পদশব্দ তোমার যেন
ছড়ায় আশার পরাগ।

মন খারাপের বেহালাটা
খোঁপার বকুল শুঁকে,
ভুল করেও বাজায় না সুর
ছড়টা রাখে তাকে।

সুখের আগে তুমি ঘৃত
দুঃখের আগে বারি,
প্রিয়া তুমি যখন পাশে
সবই করতে পারি।

আবদ্ধ মন

আবদ্ধ মন
দিগন্ত হরিণ অনন্তে পালায়
পাই না ছুঁতে তাকে,
অশনিসম্পাত শিংয়ের বাহার
বোঝায় তার দৌড়-
দেহের লোমরাজি কেঁপে কেঁপে ওঠায়
স্পর্শ ইচ্ছেটা বাতিল।
নেইতো বনরাজি আকাশের উঠোনে
শিং তাই ফাঁসে না
হরিন দৌড়ে চলে,
অসীমের স্বাদটা আবদ্ধ মনটা
কী করে পায় বল ?

আঁচল

আঁচল
মায়ের শাড়ির আঁচলটা যেন
আশাভরসার থাম,
ছুঁয়ে থাকলেই ভয়টা উধাও
হাতে নেই কোনো ঘাম।

দিদির আঁচল স্নেহাশিষ মাখা
প্রহরায় সদা রয়,
যমরাজ তাই এদিকে আসে না
সর্বদা মনে ভয়।

প্রিয়ার আঁচলে লজ্জা লুকোনো
মনেতে প্রেমের গান,
আপদবিপদ শক্তি হারিয়ে
রাখছে প্রিয়ার মান।

কত গল্পের কথা বলে ওঠে
ওই আঁচলের ভাঁজ,
হাসিকান্নায় ভেজা চোখদুটো
মোছা আঁচলের কাজ।

সেই আঁচলের মান না রাখলে
এই সমাজের হার,
সভ্যতা যাবে রসাতলে ত্বরা
কে নেবে পাপের ভার?

ঢেউ-তৈরি-করা কারখানা

ঢেউ-তৈরি-করা কারখানা
পুরীতে দেখে এলাম ঢেউ-তৈরি-করা কারখানা
চালু দিনের চব্বিশ ঘন্টা।
উঁচুনীচু ঢেউ মাথায় জলের বোঝা সামলাতে পারে না আছড়ে পড়ে
ভেঙে দেয় স্যান্ডআর্ট, ভরে দেয় জল চোখে।
কারখানার চিমনি ছড়ায় বাতাসে নানা গন্ধ-
সেই ঘ্রাণে শঙ্খচিলেরা মাতাল হয়ে ওড়ে।
প্রতিনিয়ত উৎপাদন অবিশ্রান্ত শ্রম
ছুটির ঘন্টাটা দেখতে কেমন, কেমন বা স্বাদেগন্ধে-
হতভাগ্য শ্রমিকরা জানে না মোটেই।
নির্বাক শ্রমেও জল ঝরে
সহস্র মেশিন ও গর্জন করে
দর্শনে রুপোলি, ঘ্রাণে গন্ধযুক্ত
অক্লান্ত উৎপাদন দেখে ক্লান্ত হয় না
পর্যটকের মন।

পথ চেয়ে চেয়ে

পথ চেয়ে চেয়ে
তোমার আসার পথ চেয়ে চেয়ে
সুখের পায়ের জলছাপ অশ্রুবারি
শুকিয়ে গেল আকাশে-
বেদনার আঙুল কাটছে বিলি
আমার মাথার চুলে, রাত বড়ই ভারী বাতাসে।

এখনো ভুলিনি আমি চায়ের কাপেতে বেজে ওঠা হাসি,
স্মৃতিরা আজও কান পেতে শোনে
হারিয়ে যাওয়া বাঁশি।

অভিমান তির ছুঁড়েছিলে বুকে
ভাঙল বাঁধ জোর আঘাতে,
অথই সলিলে দুকুল ভাসল
এক বুক জল সম্পর্কের খেতে।

হাঁটতে হাঁটতে হই ক্লান্ত
অক্লান্ত স্মৃতির চোখ
তবুও হয়েছে দীর্ঘায়ত।

বেঁচে থাক আমার স্মৃতি-আকাশ
বেঁচে থাক প্রাণ আর দৃষ্টি,
জ্বলো না ফানুস হয়ে
জ্বলো তুমি চাঁদ হয়ে।
এসো তুমি মেঘ হয়ে
একটু না হয় অসময়ে হোক বৃষ্টি।

একেকটা পল

একেকটা পল
একেকটা পল একেকটা ফুল
রূপেগন্ধে তৃপ্তি পাক সকল ইন্দ্রিয়।
সে বলে সুন্দর তুমি বল আহা
আমি বলি আছে এতই বাহার?

একেকটা পল আকাশের নীল
অপলক দৃষ্টি কুড়োক নীলিমা,
নীল মেখে বাঁচি তুমি বল সেও বলে
আমি বলি আছে কই রসদ বাঁচার?

একেকটা পল কচিকাঁচা মুখ
সরল হাসিটা দিক তৃপ্তি সুধা,
সে বলে কী মিষ্টি তুমি বল মধুমাখা
আমি বলি ভালো লাগে না আমার।

একেকটা পল রং কি বদলায়
আমার তোমার তার কাছে?
দৃষ্টিপথ ধরে অনুভূতি বেরোলেই
মুহুর্তের মানে যায় জলদি বদলে।

সুন্দর অনুভূতিতে দৃষ্টিটা গভীর-
উপভোগের মুহূর্ত বানায় জীবন।

বিপদের আঁকা

বিপদের আঁকা
হঠাৎ দেখি নির্জন দ্বীপ জলে ঘেরা
আমি একা,
মাথার ওপরের আকাশে
ফন্দি আঁটা দৈত্যকায় বাজ-
চোখে তার বড় খিদে
আমার অস্থিরতা চিল্লায়
কে আছো বাঁচাও?
কাছের দূরের কেউ নিকটে আসে না।
চেনা ঘর চেনা জন চেনা পথ গেল বা কোথায়?
বুঝলাম আমি নির্বাসিত।
আঁশটে গন্ধ মনের দোরে দেয় ধাক্কা-
বুঝলাম এই দ্বীপ এই বাজপাখি চারদিকের সাগর বিপদের আঁকা

হৃদয়ের টানে

হৃদয়ের টানে
আমরা দুজনে হৃদয়ের টানে
কত কাছাকাছি আজ এসেছি,
প্রেমের পুষ্প ফোটাবার ক্ষণে
কত ফুলরেণু দেহে মেখেছি।
প্রেমের ছবির অর্ধেক এঁকে
তোমাকে দিয়েছি ক্যানভাসটা,
পূর্ণ ছবির মাধুরী দেখেই
লজ্জা পেয়েছে স্বয়ং স্রষ্টা।
হোক আমাদের পর্ণ কুটির
চারদিকে বেড়া ভালোবাসার,
হিংসা ঘৃণার বদমাস চোর-
পলায়ন করা কৃষ্ণসার।
বাগিচায় কত রোপণ করেছি
হরেক রকম বিটপীর চারা,
হৃদয় নিংড়ে তাদের মূলেতে
দিয়েছি মিষ্টি জলের ধারা।
আদর যত্ন সোহাগ শ্রদ্ধা
বৃদ্ধি করেছে তরুর হাসি,
তাদের যৌবনে স্পর্ধা এনেই
করেছে তাদের প্রেম পিয়াসি।
প্রেমের স্নেহের আবহে জন্ম
নিয়েছে বৃক্ষে ফল ও ফুল,
জীবনটা তাই হোক মনোরম
প্রণয় ফোটাক কদমফুল।

অসহিষ্ণু জাঁতা

অসহিষ্ণু জাঁতা
মেঘের নামটা অসহিষ্ণুতা
লিখছে যেথায় সেথায়,
কখনও তা মনের পাতায়
বা নৈসর্গিক খাতায়।

কোনো পাতা নেই খালি আর
লেখার নেইকো বাকি,
পড়তে পড়তে হচ্ছে সৃষ্টি
নানান ঠোকাঠুকি।

তারই ফলে বৃষ্টি রোদ আর
ঝড়ের বেশি দাপট,
মনটা ছেড়ে সহিষ্ণুতা
দিচ্ছে জলদি চম্পট।

তাইতো আঘাত-প্রত্যাঘাতের
হচ্ছে চিত্র আঁকা,
ভালোবাসা স্নেহের ঝুলি
রয়ে গেল ফাঁকা।

ভালোবাসা স্নেহ কাঁদছে
কাঁদছে সহিষ্ণুতা,
সময়টাকে দিচ্ছে পিষে
অসহিষ্ণু জাঁতা