তোমাকে দিলাম জীবনটা

তোমাকে দিলাম জীবনটা

তোমাকে দিলাম জীবনটা খুলে
সাথে দিলাম চামচ,
মেপে নাও ক’ চামচ আছে শ্রদ্ধা-বিশ্বাস আর উজাড় করা ভালোবাসা।

তোমাকে দিলাম জীবনটা খুলে
সাথে দিলাম একটা হাতা,
মেপে নাও কয়েক হাতা রয়েছে অশ্রদ্ধা
অবিশ্বাস ও ঘৃণা ?

তোমাকে দিলাম সম্পূর্ণ জীবন খুলে
দিলাম এবার একটা বালতি,
মেপে নিয়ে দ্যাখো কয়েক বালতি সততা মিথ্যাচার মানবতা পেলে।

তারপরেই তুমি সিদ্ধান্ত নিয়ো
আমার পৃথিবীতে আসবে কী না
আমায় ভালোবাসবে কী না?

ধুলো ঝড়ে

ধুলো ঝড়ে

বাতাস এখন ধুলোয় ভরা
প্রমাণপত্রে নেই শুদ্ধতা,
চোখ কান মুখ মন
বয়ে বেড়ায় তাই কি তাদের অসুস্থতা?

প্রকৃতিতে ধুলো ঝড়ে
সঙ্গে সবার পরিচিতি-
চোখে-মুখে নাকে-কানে
আনছে ক্ষতির পরিস্থিতি।

এখন আবার টিভির পর্দা
ছিন্ন করা ধুলোর ঝঞ্ঝা-
দর্শক মনটি দেয় বিষিয়ে
বিষ নামাতে ব্যর্থ ওঝা।

মিডিয়ার ওই মুখের ভাষায়
ধুলো ঝড়ের রাগ যায় দেখা,
সংবাদপত্রের পাতা জুড়ে
নেতিবাচক ঝড়ের লেখা।

এমন সকল ধুলো ঝড়ে
মনের চোখটা হারিয়ে যায়,
অসৎ ব্যবসা পায় না দেখতে
প্রতিবাদের ভাষা হারায়।

আসল নকল ফারাক কত
ভুলে গেছে মনের আঁখি,
ছলের মোহ বাঁধছে কষে
দুষ্ট হাতে প্রীতির রাখি।

ভাবছি আকাশপাতাল

ভাবছি আকাশপাতাল
বারান্দার টবে বেড়ে উঠছে গাছটা,
নৈমিত্তিক কাজ সূর্য খোঁজা
সবুজ ক্লোরোফিল যে চাই।
তার কোন ক্লান্তি নেই,
আর আমি হাত গুটিয়ে ঘরের ভেতর ভাবছি আকাশপাতাল

দেড় বছরের নাতনি আমার
উঠোনে ছুটছে পড়ছে বারবার
পরক্ষণে খেলছে খেলনা নিয়ে।
লক্ষ্যের পিছে লেগে থাকছে, সাহসী একাগ্র।
আর আমি ফ্যাল ফ্যাল করে দেখছি, ভাবছি আকাশপাতাল

পাহাড় চূড়ার শক্ত বুকে
অসম্ভব প্রাণশক্তি আর লড়াকু মানসিকতা নিয়ে যে-গাছটি বেড়ে উঠছে আর প্রতিদিন একঘেয়েমি কাটাতে মেঘেদের আঁচল ধরে টানছে, সেই গাছটি প্রতিদিন দেখছি আর আমি নিজেকে আলসেমির আগুনে পোড়াচ্ছি, ভাবছি আকাশপাতল

বারান্দার চারাগাছটির কথা, নাতনির কথা আর পাহাড় চূড়ার গাছটির কথা ভাবছি আর ভাবছি আকাশপাতাল। তবুও শিখলাম না কিছু। সময় হাত নেড়ে চলেই গেল। পেলাম না কিছু।

আমার ঝাঁপি

আমার ঝাঁপি
পদ্মপুকুর যাব না আর
দেয় পাহারা সাপেরা আজ,
যতই হাসুক ফোটা পদ্ম
বসে থাকি পাড়ে নিলাজ ।

প্রথম লক্ষ্য মন্ত্র শেখা
সাপগুলোকে বশে আনা,
তাদের ধরে ধরে তখন
ভরব আমার ঝাঁপিখানা।

দেশে দেশে ঘুরে ঘুরে
গুরুর দেখা পেলাম না যে,
ভ্রমণ আমার ব্যর্থ হল
সময় গেল বৃথা কাজে।

আমার ঝাঁপি রইল খালি
পদ্মফুলের বাঁকা হাসি-
বলছে যেন মিছিমিছি
কেন বলো ভালবাসি?

সকল কর্মে কাঁটা থাকে
ভয় দেখানো সাপেরা রয়,
একটু সাহস-ভালোবাসায়
সাপ-কাঁটারা করে যে ভয়।

বুক পকেটে

বুক পকেটে
বুক পকেটে সুখের তুলো রাখা ছিল
আনমনা পথ পেছন পেছন আসছিল
সেই তুলোর টুকরো কখন হারিয়ে গেল।
না বলল পথ, না বলল বাতাস-
শুনি শুধু দীর্ঘশ্বাস।

এবার সেই পকেট দুঃখ-মুদ্রা নিয়ে হাঁটছিল
আনমনা পথ পেছন পেছন আসছিল
সেই মুদ্রা ওজন বাড়াল, পকেট ছিন্ন করল,
পড়ল মাটির বুকে, মুদ্রাদোষে আমি মুদ্রা
কুড়িয়ে নিলাম, পথ বাতাস নির্বাক,
শুনি শুধু দীর্ঘশ্বাস।

অনেক ঠকেছি। পকেটে মুহূর্ত ভরা
হাতটা বুকেতে চাপা সাবধানি পায়ে এগোচ্ছি জীবন পথে-
পথ দেখছে, মুহূর্ত দেখছে, আমি সাবধানি।
বাকি জীবনটা মুহূর্তকে সঙ্গী করে পথ চলা। শ্বাসটা চলছে দীর্ঘশ্বাস নেই।

তোর চপল চোখে

তোর চপল চোখে
তোর চপল চোখে অক্ষর পড়ি
দৈনিক দীনতা ঝেড়ে ফেলে,
পড়তে পড়তে নেশার নীলিমা
লেখে কত কথা হৃদ-নভোনীলে।

পাঠের পাখিটা ভোরের আলোয়
ভৈরব রাগের গান গায় শাখে,
তোর প্রেমের প্রেরণা এনে
পুবালী পবন সামনেই রাখে।

সে-প্রেরণায় উপোসি দেহ
অক্ষরের সাক্ষরে খিদে মেটায়,
ভাষার ভীষণ প্রেমিক প্রকাশ
ফুটছে আমার আকাশের গায়।

চাঁদ-তারারা হাসলে ঝরে
সহস্র কাব্যের উপাদান,
কুড়িয়ে কুড়িয়ে আমার কলম
করে কবিতার জন্মদান।

তোর প্রেরণার রূপগন্ধে
জেগে ওঠে যেন শুকতারা,
পথ দেখানো দিশায় হাঁটি
আমি ও আমার কবিতারা।

ফুল বলে

ফুল বলে
ফুলের কুঁড়ির স্বপ্ন যেখানে
ঘুমের আবেশে থাকে,
শিশিরবিন্দু শিশু স্বপ্নের
মুখটা ধুইয়ে ডাকে।

শিশুর এখন আলসেমি শুধু
ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে হাসি-
ফুল বলে কবে চোখ মেলে তুই
দেখবি পূর্ণশশী?

কবে তোর চোখ মাখবে রবির
নরম আলোক ভোরে,
শীতল হাওয়া, আমি উৎসুক
দেখব কখন তোরে!

তোর বিকাশেই আমার জীবন
সফলতা খুঁজে পায়,
সঁপেছি জীবন দেবতার পায়ে-
নিজের মুক্তি তায়।

মধুপ নিকটে আসুক আমার
শোষণ করুক রেণু,
আমার স্বপ্ন- সফল কানুর
বাজানো মধুর বেণু।

সময় কখনো নিষ্ঠুর হয়ে
ভেঙেছে স্বপ্ন, ঘর-
উদ্দাম নদী হারিয়েছে বেগ
বুকেতে বালুর চর।

নতুন প্রয়াসে ফুটিয়েছে কুঁড়ি
আমার আদর স্নেহ,
প্রতিকূলতার ঝড়েতে নষ্ট
হবে না স্বপ্ন দেহ।

পথের কিশোর

পথের কিশোর
আস্ত একটা চিত্রকল্প
আসুক কিশোর মনে,
কল্পনা কি সশরীরে
হাজির হল সামনে?

চোখটা বন্ধ নাকে গন্ধ
যখন এসে লাগে,
আঁখি খোলে ভাতের থালা
কোথায় যায় যে ভেগে?

স্বপ্ন দেখা দৃষ্টি তারই
দেখে ফুটপাত মেপে,
ভাতের ছবি উধাও করে
বৃষ্টি এল ঝেঁপে।

কিশোর চোখে স্বপ্ন দেখা
এদের বুঝি বারণ,
পথের কিশোর ছোট্ট মনে
পায় না খুঁজে কারণ।

কারণ খুঁজতে অনেক জলে
নামতে হবে তলে,
দায়দায়িত্ব যাদের তারা
কোথায় গেছে চলে?

অবহেলায় কিশোরবেলা
আগামীটা আঁধার,
আলো জ্বেলে আসবে কি কেউ
উত্তর দিতে ধাঁধার?

মিথ্যা প্রতিশ্রুতি

মিথ্যা প্রতিশ্রুতি
অঙ্গীকারের অঙ্গবৈকল্য যায় ঢাকা প্রসাধনে?
সম্পর্কের সন্দিগ্ধ জোনাকি আঁধারে সত্যসন্ধানে।
এই সন্ধানে হারিয়ে যায় মনোহর মুহূর্ত-মণিকা,
জোছনা-লোভী জীবনে পড়ে আঁধার রাতের যবনিকা।
মিথ্যা প্রতিশ্রুতি রং ছড়ানো, বানায় সুবর্ণ জাল-
আশ্লেষে আবদ্ধ হয়ে জীবনের কাটে ছন্দ তাল।
ছন্দ মানে কবিতার ছন্দ তাল মানে-
বাজে যে-তাল প্রাণের গানে,
মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ওষুধে জীবন বনে ছন্নছাড়া ঘাড়েগর্দানে।
শ্রীহীন জীবন কাব্যহীন, গান-সুর-তাল ছাড়া
কথা রাখার দায়টা নিতে নেইকো মনের সাড়া।
আগামীর অঙ্গীকারে থাক আন্তরিক দায়ের কিংখাব,
সম্পর্কে প্রেম-প্রীতি-স্নেহের হোক-না সওয়ালজবাব।

তুমুল জীবন

তুমুল জীবন
তুমুল জীবন বাঁচব বলেই
ভাসিয়েছিলেম জীবনতরী,
প্রতিকূলতার উদ্দাম স্রোত
হয়েছে বড়ই অনিষ্টকারী।

ঝরনা ধারার প্রবল বেগটা
ঢুকিয়েছিলেম লোহিত শোনিতে,
অশুভ স্রোতের উচ্ছ্বাস বলে-
প্রবেশ করব তোমার খনিতে।

খনির প্রতিটি প্রবেশপথেই
মজবুত বাঁধ তাইতো গড়েছি,
অশুভ শক্তি ফিরে গেছে তাই
দামি আকরিক যত্নে রেখেছি।

তুমুল জীবন কেমন দেখতে
ক্যানভাস তুলি ছবি আঁকে তার,
জল রং ভেবে পাশবিক বল
সলিল ঢেলেছে তাতে বারবার।

তেল রং তাই হয়নি নষ্ট
এখনো লড়াই চলছে তুমুল-
জিতলে বিনাশ আসুরিক ভাব
ফুটবে শরতে সাদা কাশফুল?