ও মেঘ

ও মেঘ

ও মেঘ তুমি যাচ্ছো কোথায়?
দাঁড়াও একটুখানি।
তোমার সঙ্গে আমার অনেক কথা আছে বাকি।

ও মেঘ একটু দাঁড়াও,
তোমার সঙ্গে আমার অনেক চুক্তি করা বাকি ।
সেই চুক্তিতে করতে হবে অনেক মহান কাজ।

তুমি জানো কোন কোন মেঘ বৃষ্টি ঝরায়।
তুমি জানো কাদের হৃদয় হিংসা বিদ্বেষ ঘৃণা ছড়ায়,
ভালোবাসা থাকে বহুদূরে – নির্বাসনে।

তুমি জানো কার চোখ মুখ ক্রোধ বর্ষণ করে,
স্বাভাবিক হার্টবিট যার হয়েছে ইতিহাস।
তুমি জানো কারা সমাজে দুর্নীতি ছড়ায়,
সততা কেন ঘরছাড়া?

তুমি জানো কাদের মনে
উপচে পড়ছে কুসংস্কার আর কুশিক্ষা,
পালিয়ে গেছে ভালো সংস্কার আর সুশিক্ষা।
তুমি জানো কাদের মনের আকাশে আছে দূষণের কালো মেঘ।

ও মেঘ তুমি একটু দাঁড়াও
শেষবারের মতো দাঁড়াও।
শেষবারের মতো এমন শক্তিশালী বর্ষণ কর,-
ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাক-
হৃদয় মনের হিংসা, বিদ্বেষ, ঘৃণা, ক্রোধ,
দুর্নীতি মনোভাব, কুসংস্কার, কুশিক্ষা আর মনের দূষণ।

সাফ হয়ে যাক যত মলিনতা আর কালিমা,
তারপরেতে স্থাপন করো সেথা এক বৈদূর্যমণি।
ধরার ক্ষেত্রে আবার ফলুক উত্তম মানবিক বৃত্তির ফসল।
ও মেঘ আমি তোমার অপেক্ষায়।

 

বিজ্ঞান মেনে

 

বিজ্ঞান মেনে

বিজ্ঞান মেনে ফুল ফোটে গাছে
ফল হয় ফুল থেকে,
বিজ্ঞান মেনে জোয়ার ও ভাঁটা
ঘটে যায় নদী বুকে।

বিজ্ঞান মেনে আমার ব্যাংকে
টাকার বৃদ্ধি ঘটে,
বিজ্ঞান মেনে ফাস্ট ফুডেতে
চর্বিও বাড়ে দেহে।

বিজ্ঞান মেনে দুশ্চিন্তাতে
মানসিক রোগ আসে,
সেই বিজ্ঞানে মানবসমাজ
চলেও আপন পথে।

মোদের মিলিত মনের প্রভাব
গড়ে সমাজের ভিত,
শুভ চিন্তার প্রভাব রইলে
শুভ কাজ ঘটে সেথা।

অশুভ চিন্তা ছায়া যদি ফেলে
মোদের মিলিত মনে,
শুরু হবে শুধু অশুভ ঘটনা
মানবসমাজ ভোগে।

তাই বুঝি আজ বারুদের ধোঁয়া
গন্ধ ছড়ায় হেথা,
মানবতা মরে অন্ধ গুহায়
রাস্তাটা ভুলে যায়।

আস্তাকুড়ের আশে পাশে ঘোরে
ঘৃণিত শৈশব কেন,
মায়ের হৃদয় কখন কঠিন
প্রস্তর বনে যায়।

তবু অচেতন সকলে আমরা
ধরা ধরাশায়ী আজ
আগ্নেয়গিরি জাগলে আজি
নিস্তার নাই আর।

হুঁশিয়ার হয়ে যদি ছেঁকে লই
অশুভ চিন্তা যত,
তখনি কেবল এ ধরা বাঁচবে
আমরা থাকব ভালো।

সাক্ষাৎ

সাক্ষাৎ

দুটি মানুষের সাক্ষাৎ হোক
স্মরণীয় আর অনন্য,
অনন্য হোক আন্তরিকতা
হোক না নেহাত সৌজন্য।

আদান প্রদানে কথার মালিকা
আনুক প্রেরণা সুগন্ধ,
প্রাণিত হোক না দুটি অন্তর
লেখা হোক সেরা নিবন্ধ।

প্রতিটি শব্দ বহন করুক
আত্মিক টান ভালো লাগা,
সাক্ষাৎ পরে দুজনেই খুশি
ভাবে না যে তারা হতভাগা।

মানসিক স্তর উন্নীত তাই
ভাবে পেয়ে গেছে কত কিছু,
উভয়ের লাভ তাই হরষিত
আসুক দুঃখ পিছুপিছু।

প্রতি সাক্ষাৎ এমনি হলেই
আপনজন যে সবখানে,
ভেদাভেদ দানো উধাও হবেই
মিলনের মেলা প্রতি স্থানে।

 

 

 

 

 

শান্তি খোঁজা

white and gray concrete structure

নদীর মিলন সাগর বুকে
করে শান্তি সৃষ্টি,
উষ্ণ ধরার তপ্ত শরীর
শান্ত করে বৃষ্টি।

কারো যখন দুঃখ মোচন
ঘটে তোমার তরে,
বুকের মাঝের ফুলবাগানে
শান্তি পুষ্প ভরে।

শান্তি মানে অশান্ত নয়
শান্ত বড় চিত্ত,
চিত্তে শান্তি দামি অতি
তুচ্ছ সকল বিত্ত।

অস্থির হয়ে শান্তি খোঁজা
মন্দির মসজিদ গমন,
আকাশ থেকে চাঁদটি পাড়া
অস্বাভাবিক তেমন।

শান্তি খোঁজ যখন তুমি
মনের মাঝে গিয়ে,
শান্তি শুয়ে অস্থিরতা
চাদর মুড়ি দিয়ে।

 

 

 

 

 

 

 

ভালোবাসা

ভালোবাসা

ভালোবাসা অর্জন করায়
লক্ষ টাকার কামাই হারে,
ক্রেতা গ্রাহক ভালোবাসলে
তরতরিয়ে ব্যবসা বাড়ে।

ভালবাসা অর্জন করায়
সবার হৃদয় জুড়ে রবে,
প্রিয়জন তো বাসবে ভালো
সংসার তখন সুখের হবে।

বুকে যখন ভালোবাসা
সন্দেহ যায় নির্বাসনে,
আত্মবিশ্বাস জ্যোতি ছড়ায়
রবির লজ্জা প্রতি ক্ষণে।

ভালোবাসার অগ্নিশিখা
জ্বালিয়ে দেয় ঘৃণা বিদ্বেষ,
পুণ্য মন্দির হয়ে ওঠে
তোমার প্রিয় হৃদয় স্বদেশ।

পুণ্য যখন হৃদয় ভূমি
তীর্থ করতে আস্থা আসে,
থাকে সাহস হাতটি ধরে,
সফলতা ভাগ্যাকাশে।

ভালোবাসায় পাথর হৃদয়
গলে গিয়ে হয় যে তরল,
কৃষ্ণ খেল কলার খোসা
বিদুর পত্নীর ভক্তি বিহ্বল।

ভালোবাসা ভালোবাসা
আবার এসো সবার বক্ষে,
চিত্তশুদ্ধি করে সেথা
সুন্দর ধরা করো রক্ষে।

যতই

যতই

যতই মোরে আঘাত করো
স্বপ্ন আমি দেখবো তবু,
উত্তর মেরু অঞ্চল আমি
বরফহীন কি হই কভু?

যতই মোরে আঘাত করো
আশার ভুত তো যাবে না,
আশাবাদী রইবো মনে
মনের হদিস পাবে না।

যতই মনে গরল ঢোকাও
পাবে না যে হিংসা দ্বেষ,
আমি গভীর সমুদ্র এক
প্রেমের বারি হয় না শেষ।

যতই মোরে খন্ড করো
অখণ্ড তো আমার মন,
বদলাতে কি সফল হবে
আমার মনের গহীন বন?

যতই তুমি পাঁচিল তোল
করোই শুধু ভেদাভেদ,
ভাঙতে হবে ভাঙতে হবে
ভেবেই বাড়ে আমার জেদ।

কেড়ে নিতে পারো তুমি
যত আছে সম্পদ মোর,
স্বপ্ন আশা প্রেম লুকানো
বন্ধ আছে মনের দোর।

স্বপ্ন আশা প্রেম যে আছে
প্রাণের ধারা চলছে তাই,
আগ জ্বালাতে পাথর ঘষছো?
লাভ হবে না কোন ভাই।

হতাম যদি

হতাম যদি

আকাশ পথে চলছে যেন মেঘের গাড়ি সকল,
ট্রাফিক জ্যামের চিন্তা বিনা রহে সদাই সচল।
টোল প্লাজাতে ট্যাক্স লাগে না দারুন মজায় রয়,
দেশের সীমানা বাধা নয়, তাদের নেইকো ভয়?
সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়ায় এমনি করেই তারা,
পরিচয়ের কাগজ ছাড়া ঘোরে বসুন্ধরা সারা।
এমনতরো অবাধ হতে পারতাম প্রভু যদি,
মনের সকল বেড়ি খুলে হতাম দুর্বার নদী।
খর স্রোতে ভাসিয়ে দিতাম দুর্নীতির ঐ গরল,
তখন সেথা উঠত গড়ে সমাজ এক বিরল।
সাম্প্রদায়িকতার আগাছা ভাসিয়ে দিতাম বানে,
সম্প্রীতি আর প্রেমের ধারা বইতো পরে সেখানে।
অনৈতিকতার বেড়াজাল পেতে রাখে যদি কেউ,
ফালাফালা করে ছিঁড়ে দেবে আমার প্রবল ঢেউ।
নীচতা শঠতা নৌকাগুলো ভাসতে ভাসতে এলে,
ঘূর্ণি স্রোতে ডুবিয়ে দেবই আমার বুকের জলে।
সমাজের যত পাপ আছে ধুয়ে মুছে দেব আজ,
তারপরেতে সমাপ্ত হবে আমার সকল কাজ।
কাজের শেষে তোমার টানে যাবই তোমার বুকে,
প্রভু তুমি আমার সাগর থাকব যেথায় সুখে।

ছন্নছাড়া

পথের টানে ঘুরে বেড়াই
ছন্নছাড়া আমি,
ঘরের মাঝে মন টেকে না
বাহির আমার দামি।

আমার সদা পা দুখানি
পথের উপর চলে,
সাগর আমায় হাতছানি দেয়
প্রতি পলে পলে।

নদীর জলে মনের নৌকো
সযতনে ভাসাই,
ঝর্না আমায় ডাকে যেন
আয় না মোরা পালাই।

পাহাড় চূড়ার সূয্যিমামা
আমায় যেন বলে,
আর কতকাল রইবি ঘরে
আয় না হেথা চলে।

বন বনানী সবুজ কেতন
উড়ায় আমার জন্য,
ঘরেতে মন রয় না যে গো
হবই এবার বন্য।

সবুজ পাতার গন্ধ শুঁকে
যাব নদীর তীরে,
শুনব সেথা মাঝির গান যে
ভাটিয়ালি সুরে।

এমনি করে আনন্দ যে
আসবে প্রতি পলে,
জীবনটা মোর কাটবে মজায়
লোকে ক্ষ্যাপা বলে।

ছন্নছাড়া

 

চাঁদ তুমি কার

চাঁদ তুমি কার

চাঁদ তুমি কার বলতে পারো ?
তুমি খোকার -যার কপালে টিপ পরাবে তুমি ?
মনের মত কোন সে কপাল,- টিপ পরাবে চুমি?
যার কপালে নরম সজ্জা অট্টালিকায় পাতা,
বা যার কপালে আদর ছড়ায় ফুটপাতের ওই মাতা ?

চাঁদ তুমি কার ? তুমি রাতের ওই তারাদের?
পুরুষ নারী প্রেম পূজারী, তুমি তাদের?
কাব্য লেখা ওই কবিদের? সাহিত্যিকদের?
এদের চোখের ক্যামেরা বুঝি তোমার হাসি ধরতে পারে ?
ঘরের ছাউনি নেই গো যাদের
তারা কি আর তোমায় দেখে আনন্দেতে ভাসতে পারে?

চাঁদ তুমি কি নদীর বুকের, নীল সমুদ্রের ,-জোয়ার ভাঁটা চলছে যেথায়?
তুমি ছাড়া নদী হারায় নাব্যতা, লিখে যেত বালুচরে বিলীনতা ।

চাঁদ তুমি কার বলতে পার?
তুমি কি ওই রাতে ঘোরা সব প্রাণীদের ?
তুমি ছাড়া রাতে তাদের বিচরণ যে বন্ধ হত I
তাই কি তারা ধীরে ধীরে এই পৃথিবী থেকে বিলীন হত?

বৈজ্ঞানিকরা করছে যারা তোমায় নিয়ে গবেষণা,
তুমি তাদের কাছের অতি, সেই কথাটা বলতে মানা?

চাঁদ তুমি যে সকলের তাই।
তোমার আশিস স্নিগ্ধ হাসি পাক না সবাই,
পাক না সকল প্রাণীজগৎ।