আটা সাফ

আটা

আটা ফেলেছে ঘরের স্টোর রুমে কে বা কারা।
চুপ করে আছে। কিছু তো বললো না তারা।
দোষ করলে চুপ করে থাকা এটাই কি রীতি এটাই কি ধারা?
উল্টোও দেখা যায়। যেমন, চোরের মায়ের বড় গলা। বড় গলা বড় বুলি। কে বা তাদের ঘাঁটায়।

এখনি আটা সাফ না করলে পায়ে পায়ে ছড়িয়ে যাবে পুরো ঘরে।
পরিস্থিতি জটিল হবে।
সব ঘর দেখি সাদা পায়ের ছাপে গেছে ভরে। পায়ের ছাপ কি মেঝেতে পড়েছে, না বুকে এসে পড়েছে? তবেই না ঘর সাফ হবে। কেউ কি দায়িত্ব নেবে? কে করবে সাফ?
যে ফেলেছে সে, না যার বুকে লেগেছে?
এরকম একটা অবস্থা দেশজুড়ে। দায় যেন ঝেড়ে ফেলতে চায়।

সূর্য কি পৃথিবীকে আলো দেওয়ার দায়িত্ব এড়াতে চায়? অবশ্যই না।
কারণ সূর্যরা দায় এড়ায় না, দায় নেয়।
সেই সূর্যরা আসবে কখন?

ভালোবাসা

ভালোবাসা

ভালোবাসা অর্জন করায়
লক্ষ টাকার কামাই হারে,
ক্রেতা গ্রাহক ভালোবাসলে
তরতরিয়ে ব্যবসা বাড়ে।

ভালবাসা অর্জন করায়
সবার হৃদয় জুড়ে রবে,
প্রিয়জন তো বাসবে ভালো
সংসার তখন সুখের হবে।

বুকে যখন ভালোবাসা
সন্দেহ যায় নির্বাসনে,
আত্মবিশ্বাস জ্যোতি ছড়ায়
রবির লজ্জা প্রতি ক্ষণে।

ভালোবাসার অগ্নিশিখা
জ্বালিয়ে দেয় ঘৃণা বিদ্বেষ,
পুণ্য মন্দির হয়ে ওঠে
তোমার প্রিয় হৃদয় স্বদেশ।

পুণ্য যখন হৃদয় ভূমি
তীর্থ করতে আস্থা আসে,
থাকে সাহস হাতটি ধরে,
সফলতা ভাগ্যাকাশে।

ভালোবাসায় পাথর হৃদয়
গলে গিয়ে হয় যে তরল,
কৃষ্ণ খেল কলার খোসা
বিদুর পত্নীর ভক্তি বিহ্বল।

ভালোবাসা ভালোবাসা
আবার এসো সবার বক্ষে,
চিত্তশুদ্ধি করে সেথা
সুন্দর ধরা করো রক্ষে।

চিত্ত প্রদীপ

Prodip (প্রদীপ)

সবার মনেতে প্রদীপ রয়েছে
দেখতে পাই না মোরা,
গুপ্ত চাদরে গচ্ছিত ধন
খুঁজতে না পারে চোরা।

খুঁজতে খুঁজতে নাকাল নাবিক
দৃষ্টি এড়ায় দ্বীপ,
দিন চলে যায় বিপথে কুপথে
ভুলে যাই বুকে দীপ।

চেতনা তবুও জাগে না মোদের
মন্দ কাজেতে টান,
তোমার নিকটে প্রার্থনা প্রভু
খুলে দাও আলো বান।

এমনি করেই প্রভু তুমি যদি
চিত্ত প্রদীপ জ্বালো,
খুলে যাবে সব রুদ্ধ দুয়ার
ঘুচে যাবে সব কালো।

সকল চিত্ত আলোকিত হলে
দীপাবলি প্রতি পল,
অবচেতনার বিদায় তখন
দেশের প্রগতি ফল।

অন্ধকার রাত

অন্ধকার ঘরে.......

দীর্ঘতম রাত –অমাবস্যার রাত; এর কি শেষ নেই?

একেক প্রহরে একেক অন্ধকার
কখনো দেখি অশিক্ষার অন্ধকার,
মাথায় উপরে ডিগ্রির মুকুট।
কখনো দেখি নৈরাজ্যের অন্ধকার,
নামকরা শাসকের তকমা লাগানো।
কখনো দেখি হঠাৎ গজিয়ে ওঠা ভুয়ো দেশপ্রেম,
যার মধ্যে লুকিয়ে আছে ঘৃণা আর স্বার্থের অন্ধকার।
কখনো হই নকলে নাকাল।
নকল খাদ্য, নকল ঔষধ – নকলের ছড়াছড়ি;
শুধুই নিকষ কালো কৃত্রিমতার অন্ধকার।
এই রাতের হবে কবে অবসান?

কোন এক শুভ মুহূর্তে কোন এক ঋষির আবির্ভাব হবে। তিনি এসে এক চুমুকে
এই অন্ধকারকে পান করবেন।
নতুন ঊষার নতুন সূর্যের উদয় হবে তখন।

মনটাই বেয়াড়া

বর্তমানে অবগাহন

একনাগাড়ে হেঁটেছি অনেকটা পথ ,
রোদের প্রকোপ সহ্য করে ।
বড়ই ক্লান্ত আমার দেহ। বিশাল দিঘি নিকটে ।
স্নান করতেই পারতাম। শীতল করতে পারতাম শরীরটা।
তবু কেন মন চলে যায় ফেলে আসা পথে -কত উন্মুখ দিঘির পাড়ে;
কিংবা চলে যায় সম্মুখের পরবর্তী পথে,
ভাবে এর চেয়ে ভালো দিঘির খোঁজ পাওয়া যাবে।
সেটা নিঃসন্দেহে বলা যায়? মনটাই আসলে বেয়াড়া
করতে চায় না বর্তমান সময়ে অবগাহন।
উপভোগ করব কি করে জীবনটা?
সে সর্বদা হাওয়ায় ভেসে কখনো পেছনের অতীতে চলে যায়-
যেখানে মজা করার আর উপাদান নেই,
কখনো কল্পনার ভেলায় ভেসে ভবিষ্যতে চলে যায়, তাতেই কষ্ট বাড়ে।
উপভোগ করা যায় না। জীবন হয়ে যায় নীরস।
তাই এসো হাতের নাগালে বর্তমানের দিঘিতে অবগাহন করি।

লোভের বশে এলে

লোভের বশে এলে মানুষ
সততা ভুলে যায়,
বাছ বিচার ভুলেই গিয়ে
অপকর্মে সায়।
চুরিচামারি পুকুর চুরি
যেন হাতের মোয়া,
ধরা পড়লে জেলের ঘানি
মানটা যায় খোয়া।
লোভী মানুষ যেন ফানুস
গগন মাঝে ওড়ে,
ধরা পড়লে নিম্নগামী
মর্তে এসে পড়ে।